দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানে ছাত্রীদের স্কুলে জঙ্গি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিরা। মেয়েদের নিরাপদ শিক্ষার অধিকার রক্ষায় সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতেও তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, মানবাধিকার কর্মী ইদ্রিস খট্টকের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বলপূর্বক গুম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘের শিক্ষার অধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদা শহীদ, নারী ও বালিকাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রিম আলসালেম এবং নারী ও বালিকাদের বৈষম্য বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ার-প্রতিনিধি লরা ন্যিরিঙ্কিন্দি পাকিস্তান সরকারকে লেখা এক চিঠিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘মেয়েদের শিক্ষার বিরোধী সংগঠনগুলোর দ্বারা ছাত্রীদের স্কুলে চলমান সন্ত্রাসী হামলায় আমরা উদ্বিগ্ন। সকল স্কুল হামলাই নিন্দনীয়, কিন্তু ছাত্রীদের স্কুলগুলোতে লক্ষ্য করে হামলা করা মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রাখে এবং সমাজে বৈষম্য ও অসমতা স্থায়ী করে।’ প্রতিনিধিরা ওয়াজিরিস্তানে ছাত্রীদের স্কুলগুলোর সুরক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ এবং তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পাকিস্তানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার কম, স্কুলে থাকার সম্ভাবনা কম এবং স্কুলে গেলেও শেখার ফলাফল অর্জনের সম্ভাবনা কম। গ্রামীণ এলাকার মেয়েরা শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের শিকার এবং দারিদ্র্য, সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতিনীতির মতো বিভিন্ন কারণে তাদের শিক্ষা সম্পন্ন করতে বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান এবং বেলুচিস্তানের কালাত বিভাগের সুরাব জেলায় বেসরকারি ছাত্রীদের স্কুলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের বিস্ফোরক হামলার উল্লেখ করেছেন। ইদ্রিস খট্টকের মুক্তির দাবি অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মী ইদ্রিস খট্টকের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বলপূর্বক গুম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিরা। সোমবার জেনেভায় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘জনাব খট্টকের স্বাধীনতা বঞ্চনার ঘটনায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বলপূর্বক গুম এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত ও প্রতিবেদন করার মতো মানবাধিকার কাজের প্রতিশোধ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে।’ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তারা জনাব খট্টকের মামলার বিষয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাকে সামরিক হেফাজতে নেওয়ার পর থেকে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ২০২১ সালে একটি সামরিক আদালতের বিচারে তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জনাব খট্টকের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন, বিশেষ করে যারা কমান্ড লেভেলে ছিলেন। তারা সুপ্রিম কোর্টের সেই রুলিং মেনে চলার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন যেখানে এই ধরনের বিচারকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে।