দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নীল সমুদ্রের পানিতে ভাসছে আইফোনের বাক্স, দামি সুগন্ধির বোতল আর পণ্যের প্যাকেট। ছোট ছোট নৌকায় করে সেগুলো তুলে নিচ্ছেন কয়েকজন। প্রথম দেখায় দৃশ্যটি কোনো দুর্ঘটনাস্থলের চেয়ে ভাসমান পণ্যের বাজার বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার ঘটনা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর এমন দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে পণ্য নিয়ে যাত্রা করা জাহাজটিতে আইফোন ও দামি সুগন্ধিসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল।
যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের কাছাকাছি সমুদ্রের পানিতে আইফোনের বাক্স ও সুগন্ধির প্যাকেট ভাসতে দেখা যায়। ছোট নৌকায় থাকা লোকজনকে সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতেও দেখা গেছে।
বুধবার অজ্ঞাত একটি বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার পর জাহাজটি ডুবে যায় বলে সামুদ্রিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে দামি সুগন্ধি ও আইফোনও ছিল। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর পণ্যগুলো পানিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোট নৌকায় করে সেগুলো সংগ্রহের দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে ডুবল জাহাজ?
জাহাজটি ঠিক কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় নৌ-মাইনে আঘাত লেগে জাহাজটি ডুবে যায়। অন্যদিকে, সামুদ্রিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হেনেছিল এবং এরপর আগুন ধরে যায়। ফলে জাহাজডুবির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রও এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর ওমান উপসাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডের দাবি, নৌযানটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছিল। হামলার আগে নৌযানটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে নৌযানটি ধ্বংস করা হয়। ওই ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালির কাছে আরেকটি জাহাজডুবির ঘটনাও ঘটেছে। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী বাল্কবাহী জাহাজ ‘কেপ দাও’ ২৩ সেপ্টেম্বর একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর জাহাজটি ডুবে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নাবিক নিহত হন। অন্য নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
১০ দিনে বেড়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালির আশপাশে গত ১০ দিনে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ইরান বলেছে, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই অঞ্চলে ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাসহ অন্তত পাঁচটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার চেষ্টা করছে ইরান। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটি সামুদ্রিক চলাচল সীমিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে তেহরান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য তেলের দাম উঁচু রাখা এবং ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা।
/অ