দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হুমকি ছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোমারু বিমান রাখার বিষয়ে হুমকির তথ্য পাওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, হুমকির মুখে বিমানগুলো সেখানে রেখে দেওয়ার কোনো কারণ নেই এবং সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে খুব বেশি খরচও হয় না।
ট্রাম্প বলেন, হুমকির বিষয়টি জানার পর বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র জানে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে তারা মনে করেন এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সন্দেহভাজন ইরান-সমর্থিত ষড়যন্ত্রের সরাসরি কোনো যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পেন্টাগন নিয়মিতভাবে সামরিক সম্পদ পুনর্বিন্যাস করে।
ন্যাটোর এক সামরিক সূত্র সোমবার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য ইরান এখনো তীব্র হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই ঘটনার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও বলেছেন, ওই ষড়যন্ত্রে ইরানের সমর্থন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ইরান ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা কথিত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট; অভিযোগটি ভুল জায়গায় করা হচ্ছে।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ভারী বোমারু বিমান বি-১ পরিচালনার উপযোগী অল্প কয়েকটি ঘাঁটির একটি এটি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে সেখানে মার্কিন বোমারু বিমান স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকে না।
বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে শুধু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় প্রতিরক্ষামূলক হামলার অনুমতি দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি লন্ডন। এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
রোববার পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। পেন্টাগন বলেছে, মার্কিন বোমারু বিমান বহর যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন হুমকির তথ্য পাওয়ার পর সপ্তাহান্তে দ্রুত বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানগুলোর কয়েকটি চলে যাওয়ার সময় আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও প্রস্তুত করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ক্রিস্টফ বার্গস বলেন, স্বল্পমেয়াদে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিমান হামলার সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। তবে ফেয়ারফোর্ডের ব্যবহার আগেই সীমিত ছিল, কারণ যুক্তরাজ্য শুধু প্রতিরক্ষামূলক হামলার অনুমতি দিয়েছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিমানগুলো ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া অথবা উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাঁটিতে পাঠানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সাদা ভ্যান থেকে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে মাঠের দিকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের কাছে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবে পেট্রলের পরিমাণ পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার পাঁচজনকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এর চার দিন পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকত্বের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম পাঁচজন গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা ছিল এবং এর সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকতে পারে। পরে তিনি বলেন, সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন।
ন্যাটোর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণে জোটের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার খবর প্রকাশ করে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/