দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রোববারের আঞ্চলিক নির্বাচনে তার দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। একই সময়ে জোট সরকারের শরিক সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) সঙ্গে মের্জের সংস্কার কর্মসূচি নিয়েও মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যের নির্বাচনে সিডিইউ রাজ্য পার্লামেন্টে প্রবেশের ন্যূনতম ভোটের সীমাও অতিক্রম করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে কট্টর ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। নির্বাচনের ফলকে মের্জ নিজেই বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছেন।
এএফডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো রাজ্য নির্বাচনে শীর্ষস্থান পেল। দলটি এসব ফলকে জাতীয় ক্ষমতার দিকে নিজেদের অগ্রযাত্রার গতি বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
একই দিনে বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনেও ভোট হারিয়েছে মের্জের সিডিইউ। সেখানে বামপন্থী দল ডি লিঙ্কে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। দলটি পূর্ব জার্মানির সাবেক কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত এবং জোট গঠনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রোববারের ফল মের্জের সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক বড় সংকট তৈরি না করলেও তার কম জনপ্রিয়তা এবং এএফডির উত্থান রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে মের্জের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো কয়েকটি রক্ষণশীল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও রোববার বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা রয়টার্সকে বলেন, বৈঠকটি মের্জের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা ষড়যন্ত্র নিয়ে ছিল না। তবে রাজ্য নির্বাচনে সিডিইউর কঠিন ফলাফলের পর চ্যান্সেলরকে আরও বেশি কাজ করতে হবে—এ বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।
সোমবার মের্জ তার সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ধীর প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে উঠতে এসব সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তবে একই সঙ্গে জনগণের উদ্বেগ ও আশঙ্কার বিষয়েও সরকারের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি। নিজের পদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন মের্জ।
নির্বাচনের ফলাফলের পর মের্জের জোট সরকারের শরিক এসপিডির মধ্যেও সংস্কার কর্মসূচির কিছু অংশ, বিশেষ করে পেনশন সংস্কার নিয়ে আপত্তি জোরালো হয়েছে। এসপিডির সহ-নেত্রী বারবেল বাস বলেন, এভাবে চলতে থাকা সম্ভব নয়।
করোনাভাইরাস মহামারির পর জার্মান অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে পেতে পারেনি। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্য দেশটির রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। তবে ব্যবসায়ী নেতাদের কেউ কেউ মের্জকে সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় জনমত জরিপে এএফডি এগিয়ে থাকলেও জার্মানির অন্য প্রধান দলগুলো তাদের সঙ্গে জোটে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এ নীতিকে জার্মান রাজনীতিতে ফায়ারওয়াল হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দলটির সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিবাসী পরিবারের মানুষের মধ্যেও এএফডির উত্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবিদ ইয়াসমিন গৌদার্জি বলেন, এএফডি এগিয়ে থাকা বিষয়টি মেনে নেওয়া বেশ কঠিন।
মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নের মুখ্যমন্ত্রী ও এসপিডি নেতা মানুয়েলা শভেসিগ নির্বাচনী প্রচারে মের্জের নীতির সমালোচনা করেছেন। রাজ্যে এএফডির ভোট বৃদ্ধি সীমিত রাখাকে জোট সরকারের জন্য নির্বাচনের কয়েকটি ইতিবাচক দিকের একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শভেসিগ রাজ্যটির ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনাও ধরে রেখেছেন।
শভেসিগের দাবি, ইউক্রেনকে জার্মানির সমর্থনের সমালোচনা করেই এএফডি ভোট পেয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্রও সোমবার দেওয়া বক্তব্যে এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এএফডি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পক্ষে এবং মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞাকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করে আসছে।
এদিকে মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নের রাজধানী শভেরিনে কয়েকজন ভোটার এএফডির উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মানির নাৎসি অতীতের প্রেক্ষাপটে দেশটির ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান নিয়ে তাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এএফডির সহ-নেত্রী অ্যালিস ভাইডেল সোমবারও দলটিকে নাৎসিদের উত্তরসূরি হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অ্যাডলফ হিটলারকে বামপন্থী চরমপন্থী হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন, ডানপন্থী জার্মানদের কাছে মের্জের সিডিইউর পরিবর্তে এখন এএফডিই প্রধান রাজনৈতিক ঠিকানা।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/