দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চ-ফেরি ঘাট সংলগ্ন নদীর পারে অবস্থিত শতভাগ পদ্মা-যমুনা নদীর মাছের বাজারে পাঙ্গাস, ইলিশ, বোয়াল, কাতল, রুই, চিতল, কাজলী, বেলে, টেংড়া, চেংড়ি, পিয়ালি, খোলসা সহ বিভিন্ন প্রকার মাছ পাওয়া যায়। তবে মাছের দাম তুলনা মূলক বেশি হলেও রাজবাড়ী জেলা সহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ক্রেতাগন প্রতিদিন ভোরে এই মাছ বাজারে এসে সহজে মাছ ক্রয় করেন।
মঙ্গলবার (৭ মে) সকালে দৌলতদিয়া মাছ বাজারে গিয়ে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারারাত জেলেরা পদ্মা-যমুনা নদীর মোহনায় মাছ ধরতে যায়। ভোরে জেলেরা দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর পারে অবস্থিত মাছ বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। মাছগুলো খোলা বাজারে সর্ব্বোচ মূল্যে বিক্রি হয়। সুতরাং মাছ ক্রয়-বিক্রয়ে কোন প্রকার ঝামেলা পোহাতে হয় না।
এই বাজারের একাধিক মাছের আড়ৎ গড়ে উঠেছে। জেলেরা ভোরে আড়ৎতে নিয়ে আসেন মাছ।
আড়ৎ সাহিদ মোল্লা জানান, মাছের দাম প্রতিদিন উঠা-নামা করে। কারণ নদীতে প্রতিদিন একই রকম মাছ পাওয়া যায় না। যেদিন বেশি মাছ পাওয়া যায়, সেদিন দাম একটু কম থাকে। আবার কম পাওয়া গেলে দাম বেশি হয়ে যায়। সাহিদ মোল্লা বলেন, এই বাজারে বড় বড় ইলিশ, পাঙ্গাস, কাতল, রুই, চিতল এবং ছোট মাছের মধ্যে কাজলী, পাপ্তা, চেংড়ি, বাঁচা, বেলে মাছের বেশি চাহিদা।
তিনি আরোও বলেন, এই বাজারে শতভাগ পদ্মা-যমুনা নদীর মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়।
দেলোয়ার হোসেন দেলো নামের এক মাছের আড়ৎ মালিক বলেন, প্রতিদিন এই দেশী মাছের আড়ৎতে ২০/২৫ লাখ টাকার ছোট-বড় মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়। এই বাজারে বিভিন্ন জেলার পাইকার গন এসে মাছ ক্রয় করেন। বিভিন্ন জেলার সৌখিন মানুষও এই বাজার থেকে মাছ ক্রয় করেন। অনেকে অনলাইনে মাছ ক্রয় করেন।
ফরিদপুর থেকে জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এসেছেন এই বাজারে পাঙ্গাস ও নদীর ছোট মাছ ক্রয় করতে। তিনি বলেন, এই বাজারে সরাসরি নদীর তাজা মাছ পাওয়া যায়। অন্য বাজারে নদীর মাছ পাওয়া গেলেও বরফ দেওয়া থাকে। সুতরাং দাম বেশি হলেও এই বাজারের মাছ অনেক ভাল। আবার ক্রয় করতে হলেও কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না।
দৌলতদিয়া ৬নং ফেরি ঘাটে অবস্থিত শাকিল-সোহান মাছের আড়ৎ মালিক সম্রাট শাজাহান বলেন, আমি বেশি ভাগ অনলাইনে ও মোবাইলের মাধ্যমে মাছ বিক্রি করি। দেশের বিভিন্ন জেলায় পার্সেল এর মাধ্যমে মাছ পাঠানো হয়। এই ব্যবসায়ী বলেন, এই বাজারে শতভাগ পদ্মা-যমুনা নদীর মাছ বিক্রি হয়। সুতরাং চাহিদা বেশি।
তিনি বলেন, আমি ৩২ বছর যাবৎ সুনামের সাথে নদীর মাছ বিক্রি করি। এই মাছ বিক্রি করতে গিয়ে দেশ-বিদেশের অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে।
শতভাগ পদ্মা-যমুনা নদীর মাছের বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মো. মোহন মন্ডল বলেন, এই মাছের বাজার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চলমান থাকে। মাত্র ২ঘণ্টার বাজারের দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মাছ ক্রয় করেন।
তিনি বলেন, এই বাজারে মাছ ক্রয় করতে কোন প্রকার ঝামেলা পোহাতে হয় না। সহজে ক্রয় করতে পারেন ক্রেতাগন। যে কারণে নদীর তাজা ছোট-বড় মাছ নিতে দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর পারে অবস্থিত মাছ বাজারে ছুটে আসে অনেকে। তবে এই মাছের দাম তুলনামূলক একটু বেশি।
এম