দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে টানা দাপুটে পারফরম্যান্সের পর শেষ ষোলোতে এসে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণ, আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত জয় তুলে নেওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।
শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। দ্বিতীয়ার্ধের ৭০তম মিনিটে দেজিরে দুয়েকে ফাউল করলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এর আগে টুর্নামেন্টে নিজেদের চার ম্যাচেই অন্তত তিন গোল করে জিতেছিল ফ্রান্স। তবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ওপেন প্লে থেকে গোলের দেখা পায়নি এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেসহ ফরাসি আক্রমণভাগ। শেষ ৩২-এ জার্মানিকে বিদায় দেওয়া প্যারাগুয়ে এবারও সংগঠিত রক্ষণ ও শারীরিক ফুটবল দিয়ে দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল লে ব্লুদের।
ম্যাচ শেষে দেশম বলেন, শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। তাদের ফুটবল হয়তো সব সময় দর্শকদের কাছে দৃষ্টিনন্দন মনে নাও হতে পারে, তবে তারা ছিল অত্যন্ত আগ্রাসী। ফ্রান্স নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি, কিন্তু প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙা সহজ ছিল না।
তিনি বলেন, তীব্র গরম ও উচ্চ তাপমাত্রাও ম্যাচের গতি ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছিল। এর সঙ্গে প্যারাগুয়ের কার্যকর রক্ষণভাগ ফ্রান্সের কাজ আরও কঠিন করে দেয়।
দেশমের ভাষায়, ‘লাতিন আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই কঠিন। এমন একটি প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পরের ধাপে উঠতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
ম্যাচ পরিচালনা নিয়েও কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন ফরাসি কোচ। যদিও সরাসরি রেফারির সমালোচনা করেননি, তবে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা তিনটি হলুদ কার্ড দেখলেও প্যারাগুয়ের কোনো ফুটবলার কার্ড পাননি।
দেশমের দাবি, মাঠে শুধু ফাউলই হয়নি, তার খেলোয়াড়দের মৌখিকভাবেও উসকানি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, প্রতিটি দলেরই নিজস্ব কৌশলে খেলার অধিকার রয়েছে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় গালিগালাজের প্রয়োজন ছিল না।
ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপ্পেকে রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও জানান দেশম। তিনি বলেন, ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সময়মতো এমবাপ্পেকে তুলে না নেওয়ায় প্রতিপক্ষের কঠোর ট্যাকলের শিকার হতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বেঞ্চে থাকা সবচেয়ে শারীরিকভাবে শক্তিশালী দুই খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়ে এমবাপ্পেকে সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দেশম বলেন, ‘শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়। আমি কোনোভাবেই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে চোটের ঝুঁকিতে ফেলতে চাইনি।’
কোয়ার্টার ফাইনালে এখন ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি।
দেশম জানিয়েছেন, মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের দ্রুত শারীরিকভাবে সতেজ করে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
তার বিশ্বাস, দলের ঐক্য ও মানসিক দৃঢ়তাই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, অনেক শক্তিশালী দলের মতো ফ্রান্সও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় কাজটি ঠিকই করতে পেরেছে। এখন হাতে পাঁচ দিনের প্রস্তুতির সময় রয়েছে। এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার এবং মরক্কোর বিপক্ষে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়াই হবে দলের মূল লক্ষ্য।
এমএস/