দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম সপ্তাহেই দেখা গেছে নাটকীয়তা, চমক এবং রেকর্ডের ছড়াছড়ি। লিওনেল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক, স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়া কেপ ভার্দে এবং পর্তুগালের বিপক্ষে কঙ্গোর দাপুটে পারফরম্যান্স আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপে হয়তো মেসি ম্যাজিক দেখা যাবে না।

তবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করে এবং বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে সমতা এনে আর্জেন্টাইন মহাতারকা জানিয়ে দিয়েছেন, তার গল্প এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শুরুটা ছিল হতাশাজনক। কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে পর্তুগাল অধিনায়কের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন—তিনি কি তার সেরা সময় পেরিয়ে এসেছেন?
ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও আলো ছড়িয়েছেন শুরুতেই। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে তিনি আবারও নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ থেকে মাত্র দুই গোল দূরে।
সোনালি জুতার লড়াইটাও ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। মেসি তিন গোল করে শীর্ষে রয়েছেন। তার পেছনে দুই গোল করে যৌথভাবে অবস্থান করছেন সাত ফুটবলার। এই তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, নরওয়ের এরলিং হলান্ড এবং ফ্রান্সের এমবাপ্পে।
প্রথম সপ্তাহের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপদেশটি। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা স্পেনের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে কেপ ভার্দে।
চমক দেখিয়েছে কঙ্গোও। ইয়োনে উইসার বিশ্বকাপে দেশের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন পর্তুগালের বিপক্ষে। সেই গোলের সুবাদে পাওয়া ১-১ ড্র শুধু কিনশাসা থেকে নিয়াঙ্গারা পর্যন্ত আনন্দই ছড়ায়নি, প্রতিযোগিতার অন্য দলগুলোকেও সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, আন্ডারডগরা বড় দলগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের যাত্রাও নজর কেড়েছে। জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারলেও তাদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের জন্য লিভানো কোমেনেন্সিয়ার গোলটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।
মাঠের বাইরেও ছিল নানা আলোচনার বিষয়। টুর্নামেন্টজুড়ে গোলাপি রঙের বুটের ব্যাপক ব্যবহার নজর কেড়েছে।

বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ফুটবলারদের পায়ে দেখা গেছে উজ্জ্বল গোলাপি বুট।
সমর্থকদের উৎসবও ছিল দৃষ্টিনন্দন। সবুজ-হলুদ জার্সি, পতাকা ও ঢাকের তালে নিউইয়র্কে ব্রাজিল সমর্থকেরা যেন রিও ডি জেনেইরোর আবহ তৈরি করেন। পরে মরক্কোর সমর্থকেরাও উৎসবে যোগ দেন। অন্যদিকে বোস্টনে স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত সমর্থকগোষ্ঠী শহরের বিভিন্ন পানশালায় ব্যাপক উপস্থিতি জানিয়ে আলোচনায় আসে।
বিশ্বকাপের আরেকটি ব্যতিক্রমী আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মেক্সিকোর অনানুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাদূত ‘মার্লিন’ নামের একটি পোষা হাঁস।

ক্ষুদ্রাকৃতির মেক্সিকো জার্সি ও বিশেষ মোজা পরে সে ইতোমধ্যে অসংখ্য সমর্থকের হৃদয় জয় করেছে।
/অ