দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেই চাপ এবার পৌঁছে গেছে নেতৃত্বের প্রশ্নেও। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিকে সামনে আনতে চাইছে উয়েফা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
টেলিগ্রাফ স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেয়ার প্রস্তাব ঘিরে ইউরোপীয় ফুটবলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক যোগসূত্র রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। সেখানে ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা, সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বয়কট এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত উয়েফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়া প্রায় যে কাউকেই আমি সমর্থন করব।’ তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনে বিরাজমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় থাকা নাসের আল-খেলাইফি এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। ৫২ বছর বয়সী এই কাতারি ক্রীড়া প্রশাসকের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ‘ফিফা সভাপতি পদ নিয়ে নাসেরের কোনো পরিকল্পনা বা আগ্রহ নেই। তিনি ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থাগুলোকে আগের মতোই সমর্থন জানিয়ে যাবেন।’
সুপার লিগ প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন খেলাইফি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্যও। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্বকাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সম্প্রচারস্বত্বধারী বিইন মিডিয়া গ্রুপেরও প্রধান।
ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসিএও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করলেও এত বড় একটি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। ভবিষ্যতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছ ও অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
তবে ইনফান্তিনোকে সরিয়ে নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা সহজ হবে না। ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের অধিকাংশের সমর্থন ছাড়া সভাপতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর মধ্যে উয়েফার সদস্য মাত্র ৫৫টি দেশ। ফলে ইউরোপের সমর্থন পেলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করাই হবে যেকোনো বিকল্প প্রার্থীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কেএম