দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ৭৯ রান। তবে জাকের আলি ও নাঈম হাসানের ব্যাটে লিড ১০৬ রানে পৌঁছেছে। এরপর আলোকস্বল্পতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই শামার জোসেফের লেগ স্টাম্পের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। দলীয় রান তখন মাত্র ১।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলামের জুটিতে বাংলাদেশের লিড ৫০ ছাড়ায়। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৩০ বলে ১৩ রান করে চেজের বলে বোল্ড হন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান। আর ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলতে বড় শট খেলতে গিয়ে জোসেফের বলে মিড-অনে ক্যাচ দেন তাওহিদ হৃদয়। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা এই ব্যাটার এবার রানের খাতা খুলতে পারেননি।
শান্ত আউট হওয়ার পর ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলি অনিক। দলের খাতায় আরও ১ রান যোগ হতেই মিরপুরে বৃষ্টি নামে। ফলে আগেভাগেই দেওয়া হয় চা বিরতি। এর আগে ৩৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
চা বিরতির পর মাঠে নেমেই উইকেট হারান লিটন কুমার দাস। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। ১০ বলে ৪ রান করেন এই ব্যাটার।
মাত্র ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ এরপরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। জাকের আলির সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ৯ রান করে ওয়ারিকানের বলে আউট হন তিনি। অন্যদিকে, জাকের ও নাঈমের ব্যাটে লিড একশ ছাড়িয়েছে।
এর আগে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে শুক্রবার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুতে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। ১৮৪ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করার পর শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন চন্দরপল।
গ্রিভসও একবার জীবন পান। মুমিনুল হক তাঁর সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন। পরে নাঈম হাসানের অফ স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ১০৩ বলে ২ চারে ৪৬ রান করেন এই ব্যাটার।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাংলাদেশের দুই অফ স্পিনার বাকি চারটি উইকেট তুলে নেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ নেমেই তিনটি চার মারেন। তবে ১৫ রান করে মিরাজের বলে স্টাম্পিং হন তিনি। এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন নাঈম। জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে শূন্য রানে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান এই অফ স্পিনার।
বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা নাঈম হাসান ৪ উইকেট নেন। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
এমএস/