দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে রান্নাবান্নার জন্য গ্যাসের ব্যবহার বহুবছর ধরেই প্রচলিত। কিন্তু, এই নিত্য প্রয়োজনীয় গ্যাস এখন বিরাট দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা প্রতিনিয়ত চারপাশে ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
যেমন- আপনি গতকাল রাতের ঘটনাটি দেখুন। চার বছর পর আসা বিশেষ এই দিনটিকে নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে উদযাপন করতে অনেকেই বের হয়েছিলেন। একসঙ্গে সবাইকে নিয়ে বাইরে খাবে বলে রেস্টুরেন্ট গিয়েছিলেন। আর সেখানেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আর সেটি ঘটেছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে।
২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাই এই ধরণের বিপদ থেকে বাঁচতে আমাদের প্রত্যেককে সতর্ক হতে হবে। এর জন্য সবার আগে গ্যাস লিকেজের লক্ষণগুলো জানা জরুরি। চলুন জেনে নিই সেগুলো কী কী:
প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত কয়েক ধরনের হাইড্রোকার্বনের এক প্রকার মিশ্রণ। বাস্তবে এটি গন্ধহীন। কিন্তু মার্কেপ্টেন নামক একপ্রকার গান্ধব পদার্থ যুক্ত করে একে গন্ধযুক্ত করা হয়। ফলে কোথাও গ্যাস লিকেজ হলে সেই গন্ধ নাকে আসে এবং তা থেকে সহজেই গ্যাস লিকেজ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
বাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে বা পাইপের মধ্যে গ্যাস আবদ্ধ করে রাখা হয়। সেটি লিকেজ হলে পাইপ বা সিলিন্ডারের উচ্চ চাপের স্থান থেকে গ্যাস বের হয়ে আসে। ফলে সে সময় তীক্ষ্ণ হিস হিস শব্দ শোনা যায়। তাই এ ধরনের শব্দ শুনতে পেলে সতর্ক হোন।
গ্যাস লিকেজ হলে ঘরের ও পাশের বাগানের ছোট গাছগুলো অক্সিজেনের অভাবে মরে যেতে পারে। তাই হঠাৎ এমন হতে দেখলে গ্যাস লিকেজ হয়েছে কি না দেখুন।
গ্যাস লিকেজ হলে ঘরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। ফলে শরীরে চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। এসময় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথার মতো শারীরিক উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।
১. দ্রুত স্থান ত্যাগ করুন।
২. ফাঁকা এবং নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন।
৩. বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু কিংবা আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকুন।
৪. দরজা–জানালা খুলে বাইরের বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে দিন।
৫. গ্যাসের প্রধান সরবরাহ বন্ধ করে দিন।
৬. দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ডাকুন।
১. প্রয়োজন ছাড়া গ্যাস লাইনের ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
২. নিয়মিত গ্যাসলাইন রক্ষণাবেক্ষণ করুন।
৩. ঘরে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখুন।
৪. সম্ভব হলে বাড়িতে কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারী যন্ত্র লাগান।
৫. গ্যাসের প্রধান সরবরাহ লাইন বন্ধ রাখার সুইচ হাতের নাগালে রাখুন।
এস