দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য নাম। দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দমন-পীড়ন, মামলা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে তাকে জনসমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কার্যত দূরে রাখা হয়। এর মধ্যেও ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া তার জ্বালাময়ী বক্তব্যটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। ওই জনসমাবেশের পর তাকে আর কোনো প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে খালেদা জিয়ার জনসমাবেশে অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। বিএনপি বারবার সভা ও সমাবেশের অনুমতি চাইলেও প্রশাসনিক বাধা, শর্ত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভাটি ছিল দীর্ঘ বিরতির পর তার বড় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন।
সেদিন বেলা ৩টার দিকে খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দেন। তার আগে দুপুরের পর গুলশানের ফিরোজা বাসভবন থেকে গাড়িবহর নিয়ে তিনি রওনা হন। দুপুর পৌনে ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে সভাপতিত্ব করেন। দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন এবং উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নির্বাচন ও গণতন্ত্র ছিল মূল বিষয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন এবং ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান তিনি। সরকারকে একদলীয় শাসন কায়েম এবং বিরোধীদের দমনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও করেন খালেদা জিয়া।
তার বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, স্বাধীনতা চায়, আর বিএনপি সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।’ এই বক্তব্যের পর থেকেই সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
ওই জনসমাবেশের তিন মাস পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ কারাবাস, অসুস্থতা ও চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তাকে মূলত হাসপাতালে বা হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায়ই জনসমক্ষে দেখা গেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি একবার ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিলেও সেটি সরাসরি জনসভা ছিল না। পরিকল্পিত একটি জনসভায় তার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণে সেটিও সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজপথ ও জনসমাবেশে গড়ে ওঠা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২০১৭ সালের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই সমাবেশই হয়ে থাকল তার শেষ বড় জনসভা। সেই দিনের জ্বালাময়ী বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এমএস/