দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন আপসহীন ও শক্ত অবস্থানের প্রতীক, যিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও কোনো নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেননি।
প্রায় চার দশক ধরে নির্বাচনী রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়ে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই জয় পান।
২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করায় তিনি নির্বাচনের বাইরে ছিলেন। পরে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বর্জন করে। ফলে ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি সরাসরি কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি ছিল।
খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি এক মাসের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পঞ্চম সংসদে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব নেন। পরে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবারও বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
এমএস/