দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশের নারীদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সৃজনশীল নেতৃত্বের জায়গায় নারীর উপস্থিতি যতটুকু হওয়া প্রয়োজন ছিল ততটুকু হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ কেন্দ্রে ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও চলচ্চিত্রে ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উইমেন্স ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটির সভাপতি আকতানিন খায়ের তানিন।
প্রবন্ধে আগামী দিনের চলচ্চিত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাবার জন্য এআই প্রযুক্তিতে নারীদের দক্ষতা অর্জনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়! ভবিষ্যতের চলচ্চিত্রে নারীদের শুধু অভিনয় নয় বরং নির্মাণ ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে নেতৃত্ব দানের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে নারীদের বিকাশের জন্য কর্মশালা ও নির্মাতাদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করতে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলতে গেলে চলচ্চিত্রকে কেন্দ্রীয় জায়গায় আনতেই হয়। বাংলাদেশের নারীরা আজ সব সেক্টরে যেমন কৃষি, প্রযুক্তি, ব্যবসায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। কিন্তু চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ করে সৃজনশীল নেতৃত্বের জায়গায় নারীর উপস্থিতি যতটুকু হওয়া প্রয়োজন ছিল ততটুকু হয়নি।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশের নারীদের এগিয়ে আসা উচিত। নারীরা সংবেদনশীল, এদের অন্য একটা থার্ড আই থাকে। নারী সূক্ষ্মভাবে দেখতে পারে, আমরা জানি নারী মায়ের জাতি, তাদের দেখার বিষয়গুলো আলাদা। সুতরাং নারী যখন তার সূক্ষ্ম চোখ দিয়ে দেখে দেখে তখন চলচ্চিত্র হয়ে হয়ে উঠে সুন্দর, আবেগময় ও পৌঁছে যায় অন্তর থেকে অন্তঃস্থলে। তার মানে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নূর্সিয়া কমল, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান ও জনপ্রিয় নারী নির্মাতা নার্গিস আক্তার।
নার্গিস আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, ‘গত ৩০ বছর নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে কথা বলে এসেছি। ইন্ডাস্ট্রিতে আমি প্রথম নারী নির্মাতা হিসেবে এসেছি, অন্যদের মতো পুরুষ সহযোগী ছিল না যার ওপর ভর করে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে। শুটিং এ নারীদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হলেও আমাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি।’
অনুষ্ঠান শেষে উইমেন্স ফিল্ম সোসাইটি পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহ-সভাপতি ডালিয়া কোরায়শী এবং ফুলের শুভেচ্ছা জানান যুগ্ম মহাসচিব উম্মে সালমা উষা। অনুষ্ঠানটিতে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন শাখার শিল্পী ও কলাকুশলী অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার শেষে নার্গিস আক্তারের ‘চার সতিনের ঘর’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা।
এবি/ আরএ