দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীতে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চারদিকে কুয়াশা আর গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যেও শাহবাগ মোড় ছিল আন্দোলনের উত্তাপে সরব। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার গভীর রাতেও থামেনি শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনস্থলে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা সেখানে এসে জড়ো হন।
রাত আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কনকনে ঠাণ্ডায় কেউ কম্বল গায়ে জড়িয়ে, কেউ একে অপরের কাঁধে হাত রেখে গোল হয়ে বসে আছেন। ক্লান্তির ছাপ নেই কারও চোখেমুখে, বরং দৃঢ় প্রতিবাদ আর ক্ষোভ স্পষ্ট। স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে উঠছে শাহবাগ।
‘হাদি মানে আজাদি, হাদি মানে ইনসাফ’, ‘এক হাদির রক্ত থেকে লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’—এমন নানা স্লোগানে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা আন্দোলনকারীরা সবাই এসেছেন শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে। কেউ স্লোগানের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি করছেন, কেউ গাইছেন হাদিকে নিয়ে লেখা গান। কেউ কেউ আবার কিছুক্ষণ হেঁটে গিয়ে দূর থেকে হাদির কবর জিয়ারত করে ফিরে আসছেন।
রাত তিনটার দিকে আন্দোলনে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ। তারা ছাত্র-জনতার সঙ্গে রাস্তায় বসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবরোধ কর্মসূচির একপর্যায়ে দুই শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগে আসেন এক মা। কনকনে শীতের মধ্যেও সন্তানদের কোলে নিয়ে তিনি হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন। এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে। সে সময় দুই শিশুকেও ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ বলতে শোনা যায়।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তার সহযোদ্ধা ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টাদের আন্দোলনস্থলে এসে জানাতে হবে এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি তারা দেখেননি।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিচার নিশ্চিত না করে তারা ফিরে যাবেন না। খুনিদের বিচারই তাদের একমাত্র দাবি। বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তবেই তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন, তার আগে কোনো আশ্বাসে আন্দোলন শেষ হবে না।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শনিবার ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনীম জুমা বলেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান চলবে। বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এলে যাওয়ার জন্য রাস্তা করে দেওয়া হবে, তবে আন্দোলন বিরতিহীনভাবে চলবে।
এর আগে শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে শাহবাগে এই আন্দোলন শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চ রাতভর অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় পানির ট্যাংকির সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা ‘শহিদি শপথ’ নেন। ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে হত্যার বিচার সম্পন্ন ও ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
এবি/