দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফিটকিরি একপ্রকার অর্ধস্বচ্ছ কাচ সদৃশ কঠিন পদার্থ। যার স্বাদ মিষ্টি ও কষা এবং অত্যন্ত শুষ্ক প্রকৃতির। এটি মূলত খনিজ দ্রব্য। পরে বিজ্ঞানীগণ ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম ফিটকিরি তৈরি করেন। এটি খুব সাধারণ সস্তা ও সহজলভ্য বস্তু। ফিটকিরি কয়েক প্রকার হয়ে থাকে। তবে ওষুধে ব্যবহারে জন্য লাল রং এর কাচ সদৃশ বা স্বচ্ছ ফিটকিরি সবচেয়ে উত্তম।এটি সাধারণত পানিকে পরিশোধিত করতে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু আপনি কি জানেন ত্বকের সমস্যা থেকে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতেও ফিটকিরি খুবই উপকারি উপাদান। যেমন- মুখের দুর্গন্ধ ও বগলের দুর্গন্ধ দূর করতে এটি বেশ কার্যকরী। এবার চলুন ফিটকিরির এমনই আরও কয়েকটি উপকারিতার কথা জেনে নেওয়া যাক:
ফিটকিরির মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ‘অ্যাস্ট্রিনজেন্ট’। যা ত্বকের মধ্যে থাকা ‘সেবাম’গ্রন্থির অতিসক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ত্বক হুট করে তেলতেলে হয়ে যায় না। বরং ভেতর থেকে ত্বকের নিজস্ব উজ্জ্বলতা ফুটিয়ে তুলতেও সাহায্য করে।
বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর রোদে পোড়া অংশে মেখে নিতে পারেন ফিটকিরি। এই উপাদানের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ব্রণ, হাইপারপিগমেন্টেশনের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
নাক কিংবা থুতনির ওপর অতিরিক্ত তেল জমে, ত্বকের উন্মুক্ত রন্ধ্রগুলো বুজে যায়। তার মধ্যে ধুলাময়লা জমলে ব্ল্যাকহেডস্ হতে পারে। অনেকেই পার্লারে গিয়ে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে এই ব্ল্যাকহেডসগুলো তুলে আসেন। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোলাপ জলের সঙ্গে ফিটকিরি মিশিয়ে কয়েকদিন মুখে মাখলে এই সমস্যা দূর হবে।
অতিরিক্ত ঘাম থেকে শরীরে দুর্গন্ধ হয়, বিশেষ করে বগলের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী হলো অতিরিক্ত ঘাম। বগলের দুর্গন্ধ নিয়ে অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। ফিটকিরিতে ঘাম কমানোর আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। গোসলের পর ফিটকিরি বগলে ঘষে নিন, দেখবেন দুর্গন্ধ দূর হবে। আর কৃত্রিম ক্ষতিকর ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা লাগবে না।
মুখে দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় কর্মস্থলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। তারা ফিটকিরি-মিশ্রিত পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। এর জন্য এক গ্লাস গরম পানিতে এক গ্রাম ফিটকিরি ও এক চিমটি লবণ যোগ করে ভালোভাবে গুলিয়ে নিন। এখানে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ভুলে আবার পানি গিলে ফেলবেন না। এতে আপনার বমি হতে পারে।
খাবার খাওয়ার পর দাঁতের ফাঁকে জমে, তা থেকে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে মাড়ি ফুলে গিয়ে দাঁত দিয়ে রক্ত পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ফিটকিরি এই সমস্যা দূর করতে পারে। এক গ্রাম ফিটকিরি, এক চিমটি দারুচিনি ও কিছু শিলা লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। মাড়িতে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন এবং কুলকুচি করে পানিটা ফেলে দিন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে এভাবে কুলকুচি করলে ভালো ফল পেতে পারেন।
বরফপানিতে একটি তুলার বল ভিজিয়ে তাতে এক গ্রাম ফিটকিরি ছিটিয়ে দিন এবং কয়েক সেকেন্ডের জন্য তুলার বলটি নাকের ছিদ্রে চেপে ধরুন, দেখবেন রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এ সময়ে নাকের উভয় ছিদ্র বন্ধ করবেন না।
এখন তো পানি জীবাণুমুক্ত করার বিভিন্ন উপায় আছে। কয়েক যুগ আগেও পানি জীবাণুমুক্ত করতে ফিটকিরি ব্যবহার করা হতো। ফোটানো পানিতে এক চিমটি ফিটকিরি ছেড়ে দিন, পানি জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। এবার নিশ্চিন্তে পানি পান করুন।
মুখে ঘা হলে ফিটকিরি লাগাতে পারেন। তাতে সামান্য জ্বালাপোড়া হতে পারে, কিন্তু মুখের ঘা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।
ঘরে শেভ করতে গিয়ে গাল কাটেনি, এ রকম ঘটনা খুব কমই শোনা যায়। শেভ করতে গিয়ে গাল বা ত্বক কেটে গেলে ফিটকিরি লাগিয়ে নিন, দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। কুঁচকে যাওয়া ত্বকে লাগালে ত্বক টান টান হবে। পাশাপাশি ত্বকে প্রাকৃতিক আভা ফিরে আসবে। এটা প্রাকৃতিক টোনার হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে যাঁদের বয়স পঞ্চাশের আশপাশে, তারা এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
এস