দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ওসিডি বা অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার এক ধরনের মানসিক রোগ। একে শুচিবাই রোগও বলা হয়ে থাকে। এতে আক্রান্ত মানুষ যুক্তিহীন অবসেশন অর্থাৎ অনর্থক চিন্তার পুনরাবৃত্ত ও সেই চিন্তা অনুযায়ী কাজ করার অদম্য ইচ্ছা চক্রের মধ্যে আটকে পড়েন। ওসিডি নারী, পুরুষ বা শিশু যে কারোরই হতে পারে৷ ৬ বছর বয়স থেকে একজন মানুষের মধ্যে ওসিডির লক্ষণ দেখা দিতে পারে৷ তবে এটি প্রায়ই বয়ঃসন্ধিকালে ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
এবার জানা যাক, ও সি ডি বা শুচিবাই রোগ কেন হয়? ওসিডি কী কারণে হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ তবে চিকিৎসকদের মতে, বংশগত কারণেও অনেক সময় ওসিডি রোগ দেখা দিতে পারে। পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত থাকলে সেক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের ওসিডি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে৷ মানুষের মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক উচ্চ ক্রিয়াকলাপ বা সেরোটোনিন নামক রাসায়নিক মাত্রা কম থাকাও এই রোগের বিশেষ কারণ।
অতিরিক্ত মাদক বা কোনো উত্তেজক পদার্থ গ্রহণ করলে সেটিও ওসিডির সেকেন্ডারি কারণ হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থায় ওসিডি রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। আবার কারো ক্ষেত্রে জীবনে কোনো দুর্ঘটনার স্বীকার হওয়ার পর থেকেও ওসিডি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু কিছু মানসিক রোগের প্রাককালীন লক্ষণ হিসেবেও এ রোগ হতে পারে৷ যেমন- সিজোফ্রেনিয়া রোগের প্রারম্ভিককালে ওসিডি হতে পারে৷
ওসিডি রোগীর বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন, বারবার একই কাজ করা। কিছু অতিসাধারণ বিষয় হলো মাত্রাতিরিক্ত হাত ধোয়া, বারবার পরিষ্কার করা, জিনিসপত্র বারবার গুছিয়ে রাখা। নিজের বা অন্যের ক্ষতি হতে পারে এমন অহেতুক ভীতিকর চিন্তা করা, যৌনতা বিষয়ক অবসেশন ইত্যাদি।
চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সাধারণত সাইকোলজিক্যাল ও ফার্মাকোলজিক্যাল এই দুই পদ্ধতিতে ও সি ডি রোগের চিকিৎসা করা হয়।
তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বলছেন, এই দুই ধরনের চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসার মধ্যে 'কগনেটিভ বিহেইভিয়ার থেরাপি' খুব উপকারি। এখানে রোগীর ভুল চিন্তাগুলোর ওপর কাজ করা হয়। বিশেষ করে নেতিবাচক চিন্তা, দৃঢ় বিশ্বাস ইত্যাদি পুনর্গঠন করার চেষ্টা করা হয়।
অপরদিকে, ফার্মাকোলজিক্যালের ক্ষেত্রে ফারমাকো থেরাপি বা মেডিসিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ওসিডি রোগীদের একইসঙ্গে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ও ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার থাকতে পারে। তাই কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু মেডিসিন গ্রহণ করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম চর্চা করা। মাদক দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকা এই রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অন্তত ৬ মাস নিয়ম মেনে চিকিৎসা করা যায়, তবে রোগী একেবারেই এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
এস