দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গলা বসা মানে কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া বা স্বর ভেঙে যাওয়া। যাই বলা হোক না কেন, আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এই কণ্ঠস্বর পরিবর্তন অনেক সময় মারাত্মক রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনে বা অন্য কোনো সাধারণ সমস্যার কারণে এমন হয়ে থাকে। আবার তাপমাত্রার তারতম্যের সময় কণ্ঠনালি কিংবা টনসিলের প্রদাহের উপসর্গ হিসেবে স্বর ভেঙে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কিন্তু, যদি দেখেন কথা বলতে গেলে গলা ব্যথা করে, কর্কশ আওয়াজ বের হয়, খাবার গিলতে কষ্ট হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জরুরি।
পেশাগত কারণে অনেকেরই জোরে বা চেঁচিয়ে কথা বলতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা বেশি দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি একটি রোগ। যাকে বলা হয় 'ল্যারিংজাইটিস'।
এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এমন কিছু রোগী আছেন, যাদের এই সমস্যা অনেক দিনের। মাঝেমধ্যেই তাদের গলার স্বর বসে যায়। তবে শুধু যে চেঁচিয়ে কথা বলার কারণে এই রোগ হতে পারে, তা কিন্তু নয়। দীর্ঘকালীন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণেও এমন হতে পারে। আর এটি হলে খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উপরে উঠে আসে। তখন গলা ও বুকে জ্বালা করতে থাকে। আবার স্বরযন্ত্রে পলিপ হলেও এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে। আর এই রোগে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা বেশি ভোগেন। তবে কিভাবে বুঝবেন আপনি এই রোগে ভুগছেন। সেক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন:
১. গলা বসে যাওয়া।
২. কর্কশ আওয়াজ বের হওয়া।
৩. ঢোক গিলতে সমস্যা হওয়া।
৪. শুকনো কাশি সহজে না কমা।
৫. মাঝেমধ্যেই জ্বর ও নাক দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা।
৬. শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা করা।
যদি দেখেন অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেয়েও স্বাভাবিক স্বর ফেরত না আসে, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা এন্ডোস্কোপ বসিয়ে স্বরনালীর পরীক্ষা করেন। যদি ভোকাল কর্ডে পলিপের মতো মাংসপিণ্ড থাকে, তাহলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হয়। লেজারের মাধ্যমেও অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা। এরপর ওই মাংসপিণ্ডের বায়োপ্সি করে দেখা হয়, সেটি ‘ম্যালিগন্যান্ট’ কি না। তখন কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপিতে রাখা হয় রোগীকে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াও যদি দেখেন গলার স্বরে হঠাৎ পরিবর্তন আসছে, তাহলে বসে না থাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
এস