দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারা পৃথিবীতে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ এক ভয়াবহ ব্যাধি বলে স্বীকৃত। কমবেশি সবাই এতে ভুগে থাকেন। এটি এমন একটি বিষয় যা এড়িয়ে চলতে চাইলেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমনকি এই মানসিক ব্যাধি মানুষকে আত্মহত্যার দিকেও প্ররোচিত করে। তাই এই বিষয়ে প্রত্যেকের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে এমন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের লোকেদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তবে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের সঙ্গে মানিয়ে চলাও কিন্তু সহজ কাজ নয়।
অবসাদগ্রস্ত মানুষের স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তান বা ভাই-বোন, যিনি বা যারা সবসময় সঙ্গে থাকেন, তাদের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এমন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে সবসময় মানসিক ভারসাম্য থাকে না। অল্পেতে রেগে যাওয়া, চিৎকার, সারা দিন হতাশাগ্রস্ত হয়ে থাকা, বা সারা দিন কান্না করা, অকারণে ভয় পাওয়া, সন্দেহ করা এগুলো মানসিক ব্যাধির ক্ষেত্রে খুবই সাধারণ ঘটনা। স্কিৎজোফ্রেনিয়া বা অন্যান্য কঠিন মনোরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বেশি হয়।
দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের মানসিক রোগীর যত্ন নেওয়া অসম্ভব ধৈর্যের বিষয়। যারা এই ধরনের মানসিক রোগীর সেবা করে থাকেন, তাদের মধ্যেও এক ধরনের অবসাদ, হতাশা, বিরক্তি, উদ্বেগ তৈরি হওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার। অবসাদের কারণগুলো নীচে দেওয়া হলো:
মানসিক রোগ দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি। এর থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় লাগে। বহু দিন ধরে চিকিৎসা চালানোর প্রয়োজন হয়। এতদিন ধৈর্য ধরে সেবা করা খুবই ক্লান্তিকর হতে পারে।
মানসিক অসুস্থতার নিরাময় কখনোই নিশ্চিত নয়। রোগীর অবস্থা কখন কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা-ও বলা যায় না। এতে আরো চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পরিচর্যাকারীরা প্রায়ই নিজেদের জন্য সময় বের করা এবং নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে মনোনিবেশ করতে পারেন না। এর ফলে তারা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন এবং একাকীত্বেও ভুগতে পারেন।
মানসিক রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হতে পারে। পরিচর্যাকারীরা প্রায়ই তাদের প্রিয়জনের যত্নের খরচ বহন করার জন্য অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন হন।
শত চেষ্টাতেও রোগের নিরাময় না হলে, অনেক সময় পরিচর্যাকারীরা অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। তারা মনে করেন ভালোভাবে যত্ন নিতে না পারাই রোগ নিরাময় না হওয়ার কারণ।
অবসাদের লক্ষণ:
১. দুঃখ, হতাশা এবং কোনও কিছুতেই আনন্দ বোধ না করা
২. সারাক্ষণ ক্লান্তি বোধ হওয়া
৩. ঘুমের অসুবিধা বা অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা
৪. ক্ষুধা বোধের পরিবর্তন এবং ওজনবৃদ্ধি বা হ্রাস
৫. মনোনিবেশ করতে অসুবিধা
৬. সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধ
৭. হীনম্মন্যতা
৮. অপরাধবোধ
৯. মৃত্যুচিন্তা বা আত্মহত্যার প্রবণতা
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
মানসিক রোগীদের পরিচর্যাকারীদের অবসাদের ঝুঁকি কমাতে এবং চিকিৎসা করাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
পরিবার, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে সমর্থন চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক রোগীর পরিচর্যাকারীদের নিজের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ। এ ক্ষেত্রে যোগ, ধ্যান বা অন্য কৌশলগুলো অনুশীলন করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
লজ্জা না পেয়ে সাহায্য চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রয়োজনে পেশাদারদের সহায়তা গ্রহণ করা উচিত।
পরিচর্যাকারীদের কিছুটা সময় বের করে নিজের ভালো লাগার বিষয় নিয়ে সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ।
যদি অবসাদের লক্ষণগুলো গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক রোগীদের যত্ন নেওয়া সহজ নয়। এটি সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে পরিচর্যাকারীরা নিজেদের যত্ন না নিলে অবসাদের শিকার হতে পারেন।
এস