দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমরা অনেকেই বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব তুলে দেই। গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত রাখা হয়। আবার স্কুল, কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের কারণে বাধ্য হয়ে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেই। দিনের বেশিরভাগ সময় শিশুদের হাতে স্মার্টফোন থাকায় তা আসক্তিতে রূপ নিয়েছে। যে কারণে শিশুদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নানাবিধ বিরূপ মনোভাব।
তবে সম্প্রতি দেশে কোটা আন্দোলন চলাকালীন হঠাৎ ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে যেসব মা-বাবা সন্তানকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো বা অবসর কাটাতে গ্যাজেট ও ইন্টারনেটকেই একমাত্র উপায় মনে করতেন, তারা এখন এর বিকল্প খুঁজছেন।
এক্ষেত্রে শিশুবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুর গ্যাজেট বা ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি কমাতে বর্তমান সময়টা কার্যকরী। ইন্টারনেট বন্ধের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে স্বাভাবিক বাস্তব জীবনে অভ্যস্ত করতে পারেন।
অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় সব বাড়িতেই শিশুরা বুঁদ ডিজিটাল পর্দায়। এর বিকিরণ থেকে চোখের নানা রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। আবার একটু বড় হলে এদের বেশিরভাগই মানুষের সঙ্গে মিশতে চাইবে না। তখন বাইরে খেলাধুলার পরিবর্তে ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
স্মার্টফোন তথা ইন্টারনেট আসক্তি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়। একটু বড় হলে এদের বেশিরভাগই মানুষের সঙ্গে মিশতে চাইবে না। বাইরে খেলাধুলার পরিবর্তে ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। আস্তে আস্তে একাকীত্ব পেয়ে বসবে তাদের। পরিবার থেকে একটু সচেতন থাকলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
শিশুবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ শিশুই স্মার্টফোন ছাড়া খেতে চায় না। ফলে দেখা যায় ওই শিশু ঠিকমত খাবারই চেনে না। কারণ মা-বাবা হয়তো তাকে স্মার্টফোন দেখিয়ে খাওয়াতেন। ফলে শিশু কী খাচ্ছে, কেন খাচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারত না। আর এই অভ্যাস অনেক শিশুর দেরিতে কথা বলার সমস্যাও সৃষ্টি করে থাকে।’
এসব ছাড়াও গ্যাজেট ও ইন্টারনেট আসক্তির কারণে শিশুর আরো বেশ কিছু অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যেমন-
১. সাধারণত প্রথম তিন বছর শিশুর মস্তিষ্কের বড় অংশের গঠন হয়। তাই এ সময় শিশু কী শিখছে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
২. শিশুকে খাওয়ানোর সময় মুঠোফোন ধরিয়ে দিলে কোনটা কী খাবার, কোনটার স্বাদ কেমন, এসব শেখার সুযোগ পায় না।
৩. কম দূরত্ব থেকে মুঠোফোন দেখার কারণে ডিজিটাল পর্দার বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মি শিশুর চোখের ক্ষতি করে।
৪. শিশু সামাজিকতা শেখে না। কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, এসব শেখায় ঘাটতি থাকে।
৫. শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। অল্পতেই রেগে যায়। নিজের রাগ প্রকাশ করতে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর, চিৎকার ইত্যাদি বাড়িয়ে দেয়।
৬. একটানা মুঠোফোনে ভিডিও দেখার কারণে শিশুর রাগ বেড়ে যায়। মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।
খাওয়ানোর সময় শিশুকে স্মার্টফোন না দিয়ে যেসব কাজ করা উপকারি:
১. খাওয়ানোর সময় শিশু যখন একটা খাবারের রং, স্বাদ, গন্ধ, আকার দেখবে, তখন খাবার নিয়ে নিজের মতামতও দিতে শুরু করবে।
২. শিশুকে খাওয়ানোর সময় গ্যাজেটের পরিবর্তে খাবারটা তৈরির গল্প বলতে পারেন। অনেক সময় খাবার ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে বলতে পারেন, ‘এসব পাখির ডিম’। তারপর একটা করে ‘ডিম’ তুলে দিতে পারেন শিশুর মুখে।
৩. সময় কাটানোর জন্য শিশুকে গ্যাজেট নয়, বরং নানা ধরনের আকর্ষণীয় পাজল কিনে দিতে পারেন। বুদ্ধি খাটিয়ে সেসব মেলাতে মেলাতে শিশুর সময় কেটে যাবে।
৪. সুযোগ পেলেই শিশুর সঙ্গে গল্প করুন। আবার তাকে নতুন নতুন বই পড়ে শোনাতে পারেন।
এস