দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্যস্ততম জীবনে একসঙ্গে অনেক কাজ করতে হয়। আর এমন করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো বিষয়গুলোও ভুলে যাওয়া। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে না থাকা। এমনকি দৈনন্দিন জীবনের ছোট-ছোট প্রয়োজনগুলোও ঠিকঠাক মনে রাখতে না পারা। বর্তমানে এমন ভুলে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। মূলত ব্যস্ততম জীবনে সংসার ও কর্মজীবন একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে উদ্বেগ এতটাই বাড়ছে যে, স্মৃতির পাতা ক্রমেই ফিকে হতে শুরু করেছে। আর এতে কম বয়সেই স্মৃতিনাশের মতো মানসিক রোগ দেখা দিচ্ছে।
তবে কাজের গুণমান বজায় রাখতে হলে মনোযোগ বৃদ্ধি করা চাই। না হলে সমস্ত কাজেই কিছু না কিছু ভুল থেকে যাবে। কিন্তু মনোযোগ বাড়বে কিসে? তার জন্য ব্যায়াম করতে হবে।
এ বিষয়ে ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা পরামর্শ দিয়ে বলছেন, মনের ওপর চাপ কমাতে এবং বুদ্ধির বৃদ্ধিতে কিছু যোগাসন নিয়মিত অভ্যাস করতে হবে। আর এটা ঠিকমতো রপ্ত করতে পারলে, মন-মেজাজ ফুরফুরে থাকবে।
সুখাসন
সহজ ও আরামদায়ক ভঙ্গিমায় করা হয় বলেই এই আসনের নাম সুখাসন। পা মুড়ে আরাম করে বসে এই ব্যায়াম করতে হয়। ম্যাটের ওপর আগে সোজা হয়ে বসুন। তার পর দুই পা সোজা করে সামনে ছড়িয়ে দিন। ডান পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে বাঁ ঊরুর নীচে নিয়ে আসুন। একইভাবে বাঁ পাও ডান ঊরুর নীচে রাখুন। দু’হাতের আঙুল জ্ঞানমুদ্রার (বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে রাখা) ভঙ্গিতে দুই হাঁটুর উপর রাখুন। এই আসন নিয়মিত করলে শরীর মনের ক্লান্তি দূর হয়ে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
শীর্ষাসন

মাথা নীচে রেখে, হাত ও কনুইয়ে ভর দিয়ে পা উলম্বভাবে উপরের দিকে তুলে রেখে এই আসন করতে হয়। অর্থাৎ মাথা থাকবে নীচে, দুই পা উপরে। প্রথম প্রথম এই ব্যায়াম করতে সমস্যা হবে। তখন দুই পা ব্যালেন্স করতে না পারলে দেয়ালে ভর দিয়ে রাখতে পারেন। ধীরে ধীরে ব্যায়াম রপ্ত হয়ে গেলে আর সমস্যা হবে না। শীর্ষাসন সঠিকভাবে করতে পারলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এই আসন নিয়মিত অভ্যাস করতে পারলে যেমন হার্ট ভালও থাকে, তেমনই অবসাদ দূর হয়। মনোযোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পদহস্তাসন

এই আসনটিও একাগ্রতা বাড়ানোর জন্য খুব ভালো। ব্যায়ামটি করার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই পায়ের মধ্যে দূরত্ব রাখুন। এবার শ্বাস নিতে নিতে হাত দুটো উপরের দিকে তুলুন। এবার ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। তারপর হাত দিয়ে গোড়ালি স্পর্শ করুন। খেয়াল রাখবেন, হাঁটু যেন না ভাঙে; টান টান থাকে। ২০-৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকার পর আগের অবস্থায় ফিরে যান।
বৃক্ষাসন

সোজা হয়ে দাড়িয়ে নিজের দুটি হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে আনুন। তারপর শরীরের ভারসাম্য রেখে নিজের ডান পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতাটি বাঁ পায়ের ঊরুর উপর আনুন। ধীরে ধীরে মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে সমান ভাবে মাথার উপর নিয়ে যান। ৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকুন।
সর্বাঙ্গাসন

এর জন্য প্রথমেই চিত হয়ে শুয়ে পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। এরপর দুই হাতের তালুতে কোমরের ভর দিয়ে পিঠ এমনভাবে ঠেলে তুলুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরলেরখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে। ৩০ সেকেন্ড এভাবে থেকে শবাসনে বিশ্রাম নিন। তিন বার অভ্যাস করুন এই ব্যায়াম। এই ব্যায়ামের নিয়মিত অভ্যাসে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, আপনার কোনো রকম অসুস্থতা থাকলে, অস্ত্রোপচার হওয়া অথবা হাঁটু-কোমরে ব্যথা থাকলে নিজে থেকে ব্যায়াম করতে যাবেন না। যেকোনো যোগাসন করার আগে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এস