দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আদিম মানুষের বর্বরতা ঘুচিয়ে আধুনিক সভ্য মানুষ হওয়ার পেছনে পোশাক যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই পোশাক শিল্পেও এসেছে অনেক উন্নতি। প্রকৃতি দিয়েছে পোশাক তৈরির নানা উপাদান। এসব উপাদানের মধ্যে সিল্ককে অন্যতম একটি উপাদান হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সিল্কের তৈরি কাপড় বা অন্যান্য বস্তু আদিতেও যেমন নিজের গৌরব নিয়ে মাথা উঁচু করে থাকতো, আধুনিক সময়েও তার সেই গৌরব অক্ষতই আছে।
সিল্কের উৎপত্তি হয়েছিল সুদূর চীনে। প্রায় দুই হাজার বছর পর্যন্ত তারা সিল্ক উৎপাদনের পদ্ধতি গোপন রাখতে পেরেছিলেন। এরপর পদ্ধতিটা ফাঁস হয়ে যায়। সারা দুনিয়াতেই ধীরে ধীরে সিল্কের বিস্তার ঘটতে থাকে।
সিল্ক নিয়ে আমাদের ইতিহাসটাও কম গর্বের নয়। টাঙ্গাইলে হ্যান্ডলুমে আর রাজশাহীতে যন্ত্রের বুননে তৈরি হচ্ছে রেশমের কাপড়। গুণগত মানের দিক থেকে এগিয়ে রাজশাহীর সিল্ক। রাজশাহীর কাপড় খুব পাতলা হয়, পরতেও বেশ আরাম।
পিওর, বলাকা, অ্যান্ডি, ক্রেপ, সাটিন, সিফন, তসর, সফট ও ধুপিয়ান সিল্ক—একই কাপড়ের নানা নাম, নানা ভেলকি। সিল্কের যত ধরনই থাক, প্রকাশ একটাই—আভিজাত্য। আর শাড়িতে যেন তা পুরোপুরি ফুটে ওঠে!
রাজশাহীতে সপুরা সিল্ক মিলস শাড়ি উৎপাদনের জন্য সারা দেশেই জনপ্রিয়। নগরের বিসিক এলাকায় তাদের কারখানার সঙ্গেই রয়েছে বিশাল বিক্রয়কেন্দ্র। আর সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ রকমের মসলিন সিল্ক শাড়ি রয়েছে। তাতে আছে এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, ডিজিটাল প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, ভেজিটেবল ডাই ও বাটিকের ছোঁয়া।
শাড়ির পাশাপাশি সিল্কের থান কাপড়ের জন্যও সপুরার পরিচিতি আছে। সিল্কের ওপরে ভেজিটেবল ডাইয়ের কাপড় কিনতে খরচ পড়বে গজপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। মসলিনের ওপর জামদানি নকশার কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকা গজ। অ্যান্ডি সিল্কের ওপর জামদানি কাজের কাপড় কিনতে গজপ্রতি গুনতে হবে ১ হাজার ৪৫০ টাকা। এদিকে মসলিনের ওপর ডিজিটাল প্রিন্টের কাপড়ের দাম ৯৫০ টাকা। স্ক্রিন প্রিন্ট হলে দাম কিছুটা কম, গজপ্রতি ৫৫০ টাকা। সব মিলিয়ে সিল্কভেদে প্রতি গজ ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। তাই আপনার যদি নির্ভরযোগ্য দরজি থাকে, তাহলে সিল্ক সংগ্রহ করে পছন্দমতো নকশার পোশাক বানিয়ে নিতে পারেন। তাতে দাম কম পড়ার পাশাপাশি আরেকটা যে সুবিধা পাবেন, সেটা হলো আপনার পোশাকটি হবে এক পিস!
সপুরা সিল্ক মূলত সিল্ক কাপড়ের উৎপাদক। এখান থেকে সিল্ক নিয়ে অনেক ফ্যাশন ডিজাইনার অনলাইন আর অফলাইনে কাজ করছেন। একরঙা কাপড় নিয়ে বৈচিত্র্যময় নকশা করছেন। ফলে সিল্কের জনপ্রিয়তা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। শাড়ির পাশাপাশি পাঞ্জাবি, শার্ট, ওড়না, স্কার্ফ, শ্রাগ, কেপ, কোটি, জ্যাকেটও তৈরি হচ্ছে সিল্কে।
সুতা থেকে সিল্ক তৈরির প্রথম যে ধাপ, মানের সিল্ক, সেটা দিয়েও আজকাল তৈরি হচ্ছে চমৎকার নকশার শাড়ি। অনেক প্রতিষ্ঠান এটাকে মসলিন বলে বিক্রি করে, তবে এটা সিল্কের একটা পর্যায়। এ ছাড়া বেনারসি ও জামদানির সঙ্গে অনেকে টুকরা সিল্কের নকশায় ফিউশন ঘটাচ্ছেন। তাতে শাড়ির জমকালো ভাবটা হচ্ছে অন্য রকম।
সিল্ক কেনার আগে যাচাই করে নেয়া উচিত, এটা আসল কি না। কারণ, আজকাল পলিয়েস্টার মিশিয়ে ওজন বাড়ানো হচ্ছে। যারা গজ কাপড় কিনবেন, তারা কাপড়ের কোনার একটু অংশ আগুনে পুড়িয়ে দেখুন। ছাই হয়ে গেলে বুঝবেন, সেটি রেশমের সুতায় তৈরি সিল্ক। পৃথিবীর ৩৬টি দেশে একই পদ্ধতিতে রেশম উৎপাদন করা হয়। সব জায়গায় এই পদ্ধতিতেই সিল্ক চেনা হয়। পোড়ানোর পর গন্ধ বের হবে এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
দেশি ডিজাইনাররা এখন নিয়মিত বিয়ের সংগ্রহ আনছেন। চাইলে ফরমাশ দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন। বাজেটটা হয়তো তৈরি পোশাকের চেয়ে একটু বেশি হবে, তবে দেশের টাকা দেশেই থাকবে।
এস