দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমরা সারাদিন নানা ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকি। সেই কাজের জন্য আমাদের দেহে শক্তির প্রয়োজন। আর আমাদের দেহ তা খাবার থেকে পায়। তাই যখনই দেহের খাবারের প্রয়োজন হয় আমরা ক্ষুধা অনুভব করি এবং খাবার খাই। এটি দেহের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু ফুড ক্রেভিং ক্ষুধা থেকে ভিন্ন। এই খাবারের ক্রেভিং আসলে কী, এর কারণ এবং কীভাবে কন্ট্রোল করবেন সে সবকিছু আজকের প্রতিবেদনে জানাবো। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক:
মাঝেমধ্যে কোনো একটা নিদিষ্ট খাবার খাওয়ার জন্য তীব্র যে ইচ্ছে হয় এবং তা না খাওয়া পর্যন্ত মন কিছুতেই শান্ত হতে চায় না, এটাকেই বলা হয় ফুড ক্রেভিং। অনেকেরই ঘন ঘন নানা ধরনের খাবারের ক্রেভিং হয়। ফলস্বরূপ দেহের ওজন বাড়তে থাকে। কারণ ক্রেভিং এর জন্য গ্রহণ করা খাবার দেহের জন্য প্রয়োজনীয় না। তাই সেই খাবার চর্বি আকারে শরীরে জমতে থাকে। তাই এই ক্রেভিং কন্ট্রোলে নিয়ে আসা অনেক বেশি জরুরি।
১. দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাদ্য না পেলে ঘনঘন ক্রেভিং হতে পারে। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকেন, তখন খাবারের ক্রেভিং বেড়ে যায়।
২. হরমোনাল কারণে পিরিয়ড ও প্রেগনেন্সির সময় ঘন ঘন খাবারের ক্রেভিং হয়। লেপটিন ও সেরোটোনিন হরমোনের জন্যও খাবারের ক্রেভিং হয়ে থাকে।
৩. স্ট্রেসে থাকলে খাবারের ক্রেভিং বেড়ে যায়। কারণ, তখন কর্টিসল হরমোন রিলিজ হয় যা বার বার ক্ষুধা অনুভব করায়। এ ছাড়া অনেকের খাবার খেলে স্ট্রেস কমে তাই বার বার খাওয়ার ইচ্ছে হয়।
৪. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলে বারবার খাবারের প্রবণতা বেড়ে যায়। কারণ তখন শরীরের ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ করে না, ইনসুলিন আমাদের শরীরের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
এই অভ্যাস কমানোর উপায়:
দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। লাইফস্টাইলের উপর ভিত্তি করে সবার খাবারের চাহিদা ভিন্ন। প্রতিদিন দেহের যতটুকু খাবার প্রয়োজন ততটুকু গ্রহণ করলে ফুড ক্রেভিং অনেকটা কমে যায়। অনেকে ডায়েটের ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে। ফলে একপর্যায়ে খাবারের ক্রেভিং হয়। যা কন্ট্রোল করা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই ডায়েট করলেও ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং খাদ্যতালিকায় যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
হরমোনের সমস্যার জন্যও ফুড ক্রেভিং হয়ে থাকে। তাই অতিরিক্ত ক্রেভিং হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে অবশ্যই জেনে নিতে হবে, কোনো হরমোনাল ইস্যু আছে কিনা। পিসিওএস( PCOS) কিংবা ডায়াবেটিস থাকলে তা কন্ট্রোলের জন্য স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল অনুসরণ করতে হবে। আর অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
অনেক সময় আমরা পিপাসা ও ক্ষুধার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারিনা। তাই পিপাসা পেলেও অনেকে মনে করে ক্ষুধা লেগেছে। তাই কোনো খাবার খেতে ইচ্ছে হলে সাথে সাথে এক গ্লাস পানি খেয়ে ফলতে হবে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় ক্রেভিং কমে যায়।
মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা কিংবা মেডিটেশন করা যেতে পারে। মন অস্থির ও অশান্ত থাকার ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ ছাড়া প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। এর ফলে শরীর থেকে ডোপামিন রিলিজ হয়ে মন ভালো থাকে।
বার বার ক্রেভিং হলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের জায়গায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নিতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও প্রসেসড ফুড এমনিতেই বার বার ক্রেভিং এর প্রবণতা বাড়ায়। তাই এসব খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। ক্রেভিং হলে খেজুর, বাদাম, ডিম, দুধ, ওটস এ জাতীয় খাবার খেতে হবে।
অনেকেরই কোনো কারণ ছাড়াই সারাক্ষণ কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছে করে। যেকোনো খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা সাধারণত ৩০ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী হয়। তাই অবেলায় খাবারের ক্রেভিং হলেই খাবার না খুঁজে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এতে ধীরে ধীরে ক্রেভিং এর মাত্রা কমে আসবে। খাবার থেকে মনোযোগ দূর করার জন্য গান শোনা যেতে পারে।
রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেকোনো খাবারের ক্রেভিং লেইট নাইটে হয়ে থাকে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
নিজেকে অতিরিক্ত রেস্ট্রিকশন এর মধ্যে নিয়ে আসা যাবে না। এতে আরো বেশি সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের প্রিয় খাবার পরিমাণ বুঝে মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে। ফলে যখন তখন তীব্র ক্রেভিং হবে না। সুস্থ থাকতে অবশ্যই রুটিন মেনে খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ফুড ক্রেভিং কোনো খারাপ ব্যাপার না। মাঝে মধ্যে যেকোনো ধরনের খাবারের ইচ্ছে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে সমস্যা তখনই হয় যখন ঘন ঘন ও কন্ট্রোলের বাইরে ক্রেভিং হয়। অতিরিক্ত ফুড ক্রেভিং কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। তাই লাইফস্টাইলে কিছুটা পরিবর্তন এনে এবং ইচ্ছা শক্তির দ্বারা ফুড ক্রেভিং কন্ট্রোলে নিয়ে আসা সম্ভব।
এস