দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল নিমিষেই মুখের স্বাভাবিক লাবণ্য ও সৌন্দর্য কমিয়ে দিতে পারে। সকালে আয়নায় নিজের ক্লান্ত মুখ দেখে অনেকেই হতাশ হন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন পড়ে এই বিরক্তিকর কালো দাগ? শুধু কি অপর্যাপ্ত রাত জাগা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে শরীরের ভেতরের অন্য কোনো জটিলতা? চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক, পরিবেশগত ও জীবনযাত্রাগত কারণ। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ত্বককে ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ করে তোলে। এর ফলে চোখের নিচের কোমল ত্বক ফুলে ওঠে এবং সেখানে একটি গাঢ় ছায়ার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ বা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাসও এই সমস্যার জন্য দায়ী।
তবে শুধু ক্লান্তি বা অনিদ্রা নয়, অ্যালার্জি বা চোখের তীব্র শুষ্কতাও ডার্ক সার্কেলের বড় কারণ। অ্যালার্জির ফলে চোখের চারপাশের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়, যা পাতলা ত্বকের নিচে গাঢ় ছাপ বা কালি হিসেবে প্রকাশ পায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের নিচের কোলাজেন ও প্রাকৃতিক চর্বি কমতে থাকে। ত্বক ক্রমান্বয়ে পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে ভেতরের রক্তনালিগুলো অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা চোখের নিচের অংশকে প্রাকৃতিকভাবেই কালো দেখায়। পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশনের কারণে চোখ অক্ষিকোটরে কিছুটা ভেতরে বসে যায়। বর্তমান যুগে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের ওপর বাড়তি চাপ বা স্ট্রেন তৈরি করে। এই চোখের স্ট্রেন রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করে চারপাশের ত্বককে কুঁচকে ও কালো করে তোলে। এছাড়া অতিরিক্ত রোদে বাটঠ রশ্মিতে ঘোরাঘুরি করলে শরীরে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যায়, যা পিগমেন্টেশন বা ত্বকের রঙ স্থায়ীভাবে বদলে দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে আবার এই সমস্যা জিনগত বা পারিবারিক সূত্রেও পেয়ে থাকে।
তবে একটু সচেতন হলে এবং ঘরোয়া উপায়ে সঠিক যত্ন নিলে এই কালো দাগ থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এর জন্য কোল্ড থেরাপি বা ঠান্ডা সেঁক দারুণ কার্যকর। একটি ঠান্ডা কম্প্রেস প্রসারিত রক্তনালিকে সংকুচিত করতে এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর ঠাণ্ডা টি ব্যাগ, শসার টুকরো বা সামান্য বরফ পরিষ্কার সুতি কাপড়ে মুড়ে চোখের পাতার ওপর কিছুক্ষণ রাখলে চোখের ক্লান্তি, ফোলাভাব ও কালি দ্রুত দূর হয়। ঘুমানোর সময় মাথা একটু উঁচুতে রাখতে অতিরিক্ত পাতলা বালিশ ব্যবহার করতে পারেন, যা চোখের নিচে তরল জমে ফোলাভাব হওয়া রোধ করে। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে লেজার সার্জারির সাহায্যও নেওয়া যায়, তবে তা অবশ্যই কোনো অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে করতে হবে।
সচেতন জীবনযাপন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান এবং সঠিক বিশ্রামই চোখের নিচের এই অবাঞ্ছিত কালো দাগ দূর করার সেরা হাতিয়ার। নিজের প্রতিদিনের রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনলে এবং নিজের প্রতি একটু যত্নশীল হলেই খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব চোখের স্বাভাবিক দীপ্তি ও মুখের সতেজ ভাব। তথ্যসূত্র: আমাদের সময়
কেএম