দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশে সংঘটিত গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও গুমসহ সব অপরাধের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা ও শারমিন সুমির সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এসব গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো বিচারের এখতিয়ার শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এবং এ সংক্রান্ত মামলার অভিযোগগুলো তদন্তের দ্বায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টগুলো থেকে জুডিসিয়াল নথি এবং থানাগুলোতে সংরক্ষিত নথিগুলো ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে প্রেরণ করতে আমরা আদালতের আদেশ চাইব। এসব নথি পর্যালোচনা করার মাধ্যমে কোনো মামলায় যদি ভুল লোককে আসামি করা হয়, তাকে আমরা বাদ দেবো এবং প্রকৃত অর্থে যারা দোষী তাদের পক্ষভুক্ত করে যথাযথ মামলা দায়ের করা হবে।
যারা এখনও মামলা করেননি তারা অবশ্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডি ১১/এ অফিস অথবা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসে সরাসরি কিংবা ডাকযোগে অভিযোগ করতে পারবেন। মামলা সংক্রান্ত সব তথ্য-প্রমাণ, অডিও-ভিডিও, পত্রিকা, মেডিকেল রিপোর্ট, নথি সবকিছুসহ মামলা দায়ের করতে হবে, পরবর্তী সব দ্বায়িত্ব প্রসিকিউশনের এবং এসব মামলা পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের কোনো আইনজীবী নিয়োগ, টাকা ব্যয় কিংবা হাজিরা দেবার প্রয়োজন হবে না।
শহীদ ও ভিকটিম পরিবারের সবাইকে দ্রুততম সময়ে আসল অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনাল বরাবর অভিযোগ জানাতে আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, মামলার সাক্ষী কিংবা ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ চাঁদাবাজি, হুমকি কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে তাকে আইনানুযায়ী নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তদন্ত সংস্থার দেওয়া তথ্যের আলোকে ট্রাইব্যুনালে করা মামলার আসামি যারা অনেকেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আছেন, তাদের নাম আমরা জানতে পেরেছি। খুব শিগগিরই তাদেরকে আদালতে উপস্থাপন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে। প্রকৃত দোষী যত শক্তিশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে যদি অকাট্য প্রমাণ থাকে, তবে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। যারা নিরপরাধ তাদের হয়রানি বন্ধেও ট্রাইব্যুনাল সতর্ক থাকবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১৯ জুলাই আন্দোলনে শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা শামসি আরা জামান এবং শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ ও গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম। উপস্থিত সবাই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানান।
কে