দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডে ৫৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ চার কর্মকর্তা এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের শ্রম পরিদর্শকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে কারখানার মালিক এজাহারভুক্ত আসামি আবুল হাসেমসহ ও তার চার ছেলেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার দুই বছর পর রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির নারায়ণগঞ্জ অফিসের পরিদর্শক মোকছেদুর রহমান ১৩ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ নিয়ে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি হয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, হাসেম ফুডে আগুনে পুড়ে ৫৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি। আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলার দ্বারা মৃত্যু সংঘটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারায় একজন আসামির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৮ জুলাই সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় আগুনে পুড়ে ওই কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিকসহ ৫৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আবুল হাসেমসহ ৬ আসামি জামিনে আছেন। পরবর্তীতে এ মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে কারখানা অব্যবস্থানাকে দায়ী করা হয়।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনে শাহ আজাদ (৪৩), উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ (৫৪), সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন (২৬) ও প্রধান প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল ও ইলেট্রিক) ওমর ফারুক (৩৮), কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ অফিসের পরিদর্শক নেছার উদ্দিন (৪০) ও সৈকত মাহমুদ (৩৭)।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে কারখানার মালিক এজাহারভুক্ত আসামি আবুল হাসেম (৭০) ও তার চার ছেলে হাসিব বিন হাসেম (৩৯), তারেক ইব্রাহিম (৩৫), তাওশীফ ইব্রাহিম (৩৩) ও তানজীম ইব্রাহিমকে (২১) অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির নারায়ণগঞ্জ অফিসের পরিদর্শক মোকছেদুর রহমান জানান, তার আগে আরও চার জন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেছেন। তদন্তে তাদের প্রাপ্ত ফলাফল তিনি নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষ্য স্মারকলিপি দাখিল করে কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কারখানার মালিকসহ ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী তৎকালীন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, মামলার ফলাফলের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে কিছুই জানায়নি।
এইউ