দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোনের গুরুত্ব অপরিসীম। অ্যান্ড্রয়েডের চেয়ে আইফোন বেশি সুরক্ষিত অনেকেই এমনটা মনে করেন। তাইতো বর্তমানে আইফোনের জনপ্রিয়তাও বেশ। তবে অ্যাপল গ্রাহকরা নতুন ধরনের অনলাইন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যেখানে স্ক্যামাররা নতুন কৌশল ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার চেষ্টা করছে। আর এটি ব্যবহারকারীদের ডিভাইস এবং ডাটার নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।
এক্ষেত্রে স্ক্যামাররা ব্যবহারকারীদের এমন ই-মেইল বা মেসেজ পাঠায় যা দেখে মনে হয় সেগুলো অ্যাপলের থেকে এসেছে। ব্যবহারকারীদের কাছে দাবি করা হয় আপনার অ্যাকাউন্ট বিপদে রয়েছে এবং তাতে দ্রুত মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত করে এবং তাৎক্ষণিক কাজ করার জন্য ভীতিকর বার্তা দেয়।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদন বলা হয়, অনেকেই এই ফাঁদে পা ফেলেছে। প্রতারকদের পাঠানো মেসেজে ক্লিক করার পর ব্যবহারকারীদের একটি জাল ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করা হয়। যা দেখতে ঠিক অ্যাপলের অফিসিয়াল সাইটের মতো। যেখানে ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ডসহ তাদের লগইন তথ্য লিখতে বলা হয়। যার ফলে ব্যবহারকারীর নিজের অজান্তেই তাদের মূল্যবান তথ্য স্ক্যামারদের হাতে তুলে দেন।
তবে প্রতারণা সেখানেই শেষ নয়। কিছু ভুক্তভোগী তাদের অ্যাপল ডিভাইসে নোটিফিকেশনের বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। যেখানে তাদের পাসওয়ার্ড রিসেট বা লগইন করতে বলছে। যার ফলে ডিভাইস ব্যবহার প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
তখন স্ক্যামাররা ব্যবহারকারীকে কল করে অ্যাপল সাপোর্টার দাবি করে বলেন, আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাকারের অধীনে রয়েছে এবং এটি রক্ষা করার জন্য তাদের কিছু তথ্য যাচাই করতে হবে। এর জন্য তারা স্পুফড কলার আইডি ব্যবহার করে।
ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য স্ক্যামাররা PeopleDataLabs-এর মতো উৎস থেকে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে। আর এই তথ্য ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীরা তা বৈধ বলে মনে করেন।
এক ব্যবহারকারী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই স্ক্যামের কথা শেয়ার করেছেন। অ্যাপল সাপোর্টার বলে দাবি করে এমন একজনের কাছ থেকে তিনি ফোন কল পান। তার আগে অবশ্য তার ফোনে প্রচুর নোটিফিকেশন আসতে শুরু করে। এই স্ক্যামারদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তাদের ডিভাইসে পাঠানো কোড চাওয়া। সফল হলে, স্ক্যামাররা ভিকটিমের অ্যাপল আইডি পাসওয়ার্ড রিসেট করতে এবং সম্ভাব্যভাবে তাদের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে এই কোডটি ব্যবহার করে।
জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
কোনো অপরিচিত ই-মেইল বা মেসেজকে অ্যাপেল থেকে পাঠানো বলে মনে না করা যাবে না। সর্বদা প্রেরকের ই-মেইল আইডি বা যে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বলা হয় তার ইউআরএল (URL) যাচাই করে নিন। যদি কিছু সন্দেহজনক বলে মনে হয় তাহলে তা এড়িয়ে চলুন। মনে রাখতে হবে, অ্যাপল কখনই ফোনে বা ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড দিতে বলে না।
এস