দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বার্তা আদান-প্রদানের সেবাগুলো কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রকদের উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের জন্য নতুন অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ।
নতুন ব্যবস্থায় অভিভাবকদের জন্য বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকছে। যেমন, তাদের সন্তান কোনো গোষ্ঠীতে যুক্ত হলে বা গোষ্ঠী থেকে বের হয়ে গেলে অভিভাবককে জানানো হবে। পাশাপাশি সন্তানের হিসাবের গোপনীয়তার বিভিন্ন সেটিংসও নির্ধারণ করতে পারবেন তারা।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিভাবকরা তাদের কিশোর সন্তানের পাঠানো বা পাওয়া ব্যক্তিগত বার্তা দেখতে পারবেন না। ফোনকলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকবে। এসব বার্তা ও কল প্রান্ত থেকে প্রান্তে সংকেতায়নের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে।
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো ঐচ্ছিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা এটিকে এই ব্যবস্থার ‘স্পষ্ট দুর্বলতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, মেটার জন্য এই উদ্যোগটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। কারণ বয়স যাচাইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এর একটি অংশের দায়িত্ব অভিভাবক ও কিশোরদের ওপর দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় অভিভাবকরা চাইলে সন্তানের প্রোফাইল ছবি কারা দেখতে পারবেন এবং কারা তাকে কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করতে পারবেন।
এ ছাড়া কিশোররা হোয়াটসঅ্যাপের ‘চ্যানেল’ কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকবে। এই সুবিধার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনপরিচিত ব্যক্তিরা ব্যবহারকারীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাঠাতে পারেন।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অভিভাবকরা দুটি ব্যবস্থার মধ্যে বেছে নিতে পারবেন। একটি হলো প্রচলিত ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা, অন্যটি আরও কঠোর ‘সীমিত বিষয়বস্তু’ ব্যবস্থা।
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নতুন নিয়ন্ত্রণগুলো সহজে চালু করা যাবে। অভিভাবকের নির্ধারিত একটি গোপন নম্বরের মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করা হবে। কিশোররা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ করতে চাইলে ওই গোপন নম্বর প্রয়োজন হবে। অভিভাবকরা চাইলে যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের সেটিংস পরিবর্তন বা পুরো ব্যবস্থা বন্ধ করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এসব নিয়ন্ত্রণ এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে অভিভাবক ও কিশোরদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা উৎসাহিত হয় এবং একই সঙ্গে সবার ব্যক্তিগত বার্তার গোপনীয়তাও বজায় থাকে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য সরকার গত জুনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ে ‘অত্যন্ত কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা’ ব্যবহার করা হবে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে না। কারণ যুক্তরাজ্য সরকার এটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদলে বার্তা আদান-প্রদানের সেবা হিসেবে বিবেচনা করছে।
/অ