দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্মার্টফোন হারানো মানেই শুধু দামি একটি ডিভাইস হারানো নয়। এর সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বরসহ নানা সংবেদনশীল তথ্য। ফোন চুরি হলে আপনার পরিচয়ে অন্য কেউ বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের চেষ্টাও করতে পারে। তাই ফোন হারানোর পর কী করবেন, সেটি ভাবার চেয়ে হারানোর আগেই কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সিআইও ডটকম’-এর এক প্রতিবেদনে ফোন হারানো বা চুরি হওয়ার আগেই সাতটি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. ফোনে পাসওয়ার্ড বা স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন
ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা স্ক্রিন লক ব্যবহার করা। ফোন অন্য কারও হাতে পড়লেও লক খোলা না থাকলে ব্যক্তিগত তথ্য দেখা, অ্যাপ ব্যবহার কিংবা আপনার পরিচয়ে বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমান স্মার্টফোনে পিন, পাসওয়ার্ড, প্যাটার্ন ও আঙুলের ছাপের মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে জন্মতারিখ, ১২৩৪ কিংবা সহজে অনুমান করা যায় এমন সংখ্যা পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
২. নিয়মিত ফোনের তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন
ফোন হারিয়ে গেলে নতুন ফোন কেনা সম্ভব হলেও পুরোনো ছবি, ভিডিও, যোগাযোগের নম্বর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই নিয়মিত ফোনের তথ্য ক্লাউড বা নিরাপদ অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাকআপ রাখা উচিত।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল অ্যাকাউন্ট এবং আইফোনে আইক্লাউডের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। ফোনের তথ্য যত নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা হবে, ফোন হারানোর পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকিও তত কমবে।
৩. লক স্ক্রিনে পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য রাখুন
ফোন হারিয়ে গেলে কেউ সেটি খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় না থাকলে ফোন ফেরত দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এ জন্য ফোনের লক স্ক্রিনে বিকল্প যোগাযোগ নম্বর বা সংক্ষিপ্ত বার্তা যুক্ত করে রাখা যেতে পারে।
যেমন, ফোনটি পাওয়া গেলে অনুগ্রহ করে এই নম্বরে যোগাযোগ করুন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে লক স্ক্রিনে বাসার ঠিকানা, ব্যক্তিগত ই-মেইল কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।
৪. জরুরি যোগাযোগের নম্বর ফোনের বাইরেও রাখুন
বর্তমানে অনেকেই পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানের নম্বর মুখস্থ রাখেন না। সব নম্বর থাকে ফোনের কন্টাক্ট তালিকায়। কিন্তু ফোন হারিয়ে গেলে জরুরি মুহূর্তে এসব নম্বরে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তাই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নম্বর আলাদা কাগজে লিখে মানিব্যাগে রাখা যেতে পারে। এর মধ্যে পরিবারের সদস্য, কাছের বন্ধু বা আত্মীয়, মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবা, ব্যাংকের জরুরি যোগাযোগ এবং কর্মস্থলের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নম্বর রাখা যেতে পারে।
বিশেষ করে ফোন হারালে সিম বন্ধ করা কিংবা অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর হাতের কাছে রাখা জরুরি।
৫. ফোন খুঁজে পাওয়া ও দূর থেকে তথ্য মুছে ফেলার সুবিধা চালু রাখুন
ফোন হারিয়ে গেলে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা কিংবা প্রয়োজন হলে দূর থেকেই তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘ফাইন্ড হাব’ এবং আইফোনে ‘ফাইন্ড মাই’ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। তবে এসব সুবিধা কার্যকর রাখতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু রাখতে হবে।
ফোন চুরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে ডিভাইসটি শনাক্ত করার চেষ্টা করা উচিত। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে দূর থেকেই ফোনের তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থাও রয়েছে।
৬. ফোনে অপ্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য রাখবেন না
ফোনে ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত নথি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পাসওয়ার্ড সাধারণ নোটে লিখে রাখা উচিত নয়। ব্যাংকিং অ্যাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ এড়িয়ে চলা এবং কেনাকাটার অ্যাপে এক ক্লিকে অর্থ পরিশোধের সুবিধা ব্যবহারে সতর্ক থাকা দরকার। ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষিত রাখতে হবে।
পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপক ব্যবহার করলে একাধিক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
৭. মেমোরি কার্ডের তথ্যও সুরক্ষিত রাখুন
ফোনে স্ক্রিন লক থাকলেই সব তথ্য নিরাপদ, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বিশেষ করে ফোনে আলাদা মেমোরি কার্ড থাকলে সেটির তথ্যও সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
কেউ ফোন থেকে মেমোরি কার্ড খুলে কার্ড রিডারের মাধ্যমে অন্য ডিভাইসে থাকা তথ্য দেখার চেষ্টা করতে পারে। তাই সমর্থিত ডিভাইসে মেমোরি কার্ডের তথ্য এনক্রিপ্ট বা অন্য উপায়ে সুরক্ষিত রাখা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথির আলাদা ব্যাকআপ রাখাও প্রয়োজন।
স্মার্টফোন হারানো বা চুরি হওয়া সব সময় ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে আগে থেকেই কয়েকটি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রাখলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, আর্থিক ক্ষতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমানো যায়। তাই ফোন হারানোর পর নিরাপত্তা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার চেয়ে হারানোর আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
এমএম/