দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর আগুন ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু।
আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, কিয়েভের বুচা জেলায় ওই রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর গুদামটিতে আগুন ধরে যায় এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। শনিবার সকালেও সেখানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছিল।
গুদামটিতে গোলাবারুদ মজুত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে ৩০০ জনের বেশি জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, সম্ভাব্য অবহেলার বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আবাসিক ভবন বা বসতবাড়ির কাছে গোলাবারুদ রাখা যাবে না—এ বিষয়ে নিয়ম স্পষ্ট। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভ অঞ্চলের মিলা গ্রামের একটি গোলাবারুদ গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই গুদামে এফপি-১ ও এফপি-২ দূরপাল্লার চালকবিহীন আকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উৎক্ষেপণ বুস্টার রাখা ছিল।
এদিকে, বুচা জেলার হামলার পাশাপাশি বরিসপিল জেলায় পৃথক হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাকাচেঙ্কো। জেলেনস্কি ওডেসা, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, সুমি ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও রাতভর হামলার কথা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোর পর্যন্ত রাতভর হামলায় রাশিয়ার ২৩৩টি চালকবিহীন আকাশযান ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার বেলগোরোদ ও রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় দুইজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজন জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তাদের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আরেকটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের কার্যক্রমও স্থগিত করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/