দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় সামরিক অভিযান জোরদারের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় ইরান তার নীতি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর জন্য ইরানের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে তেহরান ‘সময়োপযোগী ও সুনির্দিষ্ট’ সামরিক হামলা চালাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনা বর্তমানে কার্যত থমকে আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক অভিযানের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের মধ্যে, পারস্পরিক সম্মতিতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রেখে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিস্তৃত বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতা দ্রুত ভেস্তে যায়। ইরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারায় প্রণালিটির ব্যবস্থাপনার অধিকার তাদের দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ইরান এমন কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে শুরু করে, যেগুলো অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে তেহরান দাবি করেছে। গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই সমঝোতা ‘শেষ’ হয়ে গেছে।
এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রতিশ্রুতি বারবার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। রয়টার্সকে ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক সপ্তাহের একটি সময়সীমা দেবে। এই সময়ের মধ্যে সমঝোতার সব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটিকে ভবিষ্যৎ আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের এই সময়সীমার কথা জানানো হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছে। শুক্রবার এক সমাবেশে ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথাও বলেন।
এর আগে সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই তাঁর ‘প্রধান লক্ষ্য’। যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আবারও তুলে ধরেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/