দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিদেশি প্রভাব ও গোয়েন্দা তৎপরতা ঠেকাতে নতুন একটি বিলের মূলনীতি অনুমোদন করেছে ইরানের সংসদ। প্রস্তাবিত আইনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য বৈরী হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যম, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার বা যোগাযোগকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।
রোববার ইরানের শরঘ পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে সংসদের বিচার ও আইনবিষয়ক কমিশনের সদস্য ওসমান সালারি জানিয়েছেন, বিলটির পৃথক ধারাগুলো এখনো সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত বিলের বিস্তারিত তথ্যকে এখনই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা এসব দেশের অর্থায়নে পরিচালিত এবং ইরানের জন্য বৈরী হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া বা আলোচনায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এ ছাড়া অন্যান্য বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিদেশি দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনো অনারানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি ও অবহিতকরণ ছাড়া যোগাযোগ করলে জরিমানা এবং নির্দিষ্ট সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে বিদেশিদের নির্দেশনা বা তত্ত্বাবধানে সংঘটিত অর্থনৈতিক অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বিদেশিদের কাছে তথ্য সরবরাহ এবং অনুমোদিত তালিকার বাইরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাও সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনায় এমন কোনো নীতি বা আইন প্রস্তাব করা হলে, যা ইরানের নিরাপত্তা বা স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হবে, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসব মামলার বিচার বিপ্লবী আদালতে করার প্রস্তাবও রয়েছে।
বিলটি এখন ধারা অনুযায়ী সংসদে আলোচনা ও অনুমোদন করা হবে। সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে এটি ইরানের প্রথম উদ্যোগ নয়। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটি বৈরী রাষ্ট্রের সঙ্গে কথিত সহযোগিতার জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান করে একটি আইন পাস করেছিল।
ওই আইনের আওতায় চলতি মাসে ইরানের আলোকচিত্রী ইয়ালদা মোয়ায়েরিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৈরী হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ছবি সরবরাহের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/