দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তিন ইরানি পাইলটকে কাতার আটক করে রেখেছে—ইরানের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে দোহা। কাতার বলেছে, এ ধরনের দাবি ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং এতে তারা বিস্মিত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর দিকে সামরিক অভিযানের সময় দুটি যুদ্ধবিমান কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হওয়ার পর তিন পাইলটকে কাতার আটক করেছে বলে দাবি করে ইরান। তাদের মুক্তির আহ্বানও জানিয়েছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রধানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ বলেন, জাভাদ সালেহি, আবদুল মজিদ দাশতিয়ান ও ইমরান বেহরুশিয়ান নামের তিন পাইলট ছয় মাস ধরে আটক রয়েছেন।
তিনি জানান, একই অভিযানে নিহত চতুর্থ পাইলট মজিদ কাজেমির মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ২ মার্চ যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিতে বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, যুদ্ধের সময় কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তিন পাইলটকে কাতার আটক করে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রধান মিরজানা স্পোলিয়ারিচের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি আটক পাইলটদের ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ লঙ্ঘনের জন্য কাতারকে অভিযুক্ত করেন।
তবে কাতারের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি ইরানের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার’ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে আমরা বিস্মিত।’
আল-আনসারি জানান, কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাতারের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাইলটদের মরদেহের সন্ধানে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। উদ্ধার করা এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি সমন্বয় করতে কাতার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য দেওয়া আমন্ত্রণে তেহরান এখনও সাড়া দেয়নি।
/অ