দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাপানে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরেও হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার চিবা প্রিফেকচারে সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা জারি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকালে তা এক ধাপ নামিয়ে চতুর্থ মাত্রায় আনা হলেও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চিবায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন গুণ এবং জাপানে এ যাবৎ রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
চিবা গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বায়ু মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে এই অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি ও আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে অন্তত আটজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে ছিলেন। আরও দুজন রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ে পরে মারা যান।
বৃষ্টির কারণে শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি রেলসেবা বন্ধ ছিল। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক লাখের বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে চিবা প্রিফেকচারের ২০ হাজারের বেশি পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। যাত্রীদের একটি অংশ বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে আটকা পড়েন। প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ রাত কাটিয়েছেন চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে।
নারিতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সব ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। তবে জাপান এয়ারলাইনস কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছে।
এদিকে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কায় বেশির ভাগ স্কুল ও সরকারি কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে জাপান, ফিলিপাইন ও চীনে একের পর এক ঝড় আঘাত হেনেছে। ডলফিন, চান-হোম ও পেইলু নামের ঝড়গুলো একই সময়ে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। এর মধ্যে ডলফিনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে ভারী বৃষ্টি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। চীনে ডলফিনের আঘাতের আগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় ১০ লাখের বেশি মানুষ।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/