দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ আট বছর ধরে জাপানে চাকরি করছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী আব্দুল। এতদিন দেশটিকে নিজের ঘরের মতো মনে হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ম কঠিন হওয়ায় এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি।
স্ত্রীকে নিয়ে উত্তর টোকিওতে বসবাসকারী আব্দুল জানান, স্থায়ীভাবে থাকার আবেদন বাতিল হলে তাকে বাধ্য হয়ে জাপান ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যেতে হতে পারে।
জাপানের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মে আবেদনকারীর আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হওয়া, জাপানি ভাষায় ভালো দক্ষতা এবং অন্তত ৩০ বছরের পেনশন জমার হিসাব থাকার মতো শর্ত যুক্ত হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে, যাতে তারা দেশের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ান। দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করা মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনসহ অনেক বিদেশিও নতুন নিয়মে স্থায়ী আবাসন পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গবেষকদের মতে, নতুন এই নীতি জাপানের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জন্মহার কমে যাওয়ায় বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ হিসাব অনুযায়ী, জাপানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ কঠিন হলে দক্ষ বিদেশি কর্মীরা জাপানে আসতে আগ্রহ হারাতে পারেন।
জাপানের রাজনীতিতে রক্ষণশীল ও ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বাড়ার মধ্যেই বিদেশিদের নিয়ে নীতিতে এই পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের নতুন নীতিতে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের আগমনে সামাজিক সমস্যা বাড়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে একটি জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি জাপানি নাগরিক দেশটিতে আরও বেশি বিদেশি আসার পক্ষে নন। নতুন নীতি ও জনমতের এই পরিবর্তনের মধ্যে জাপানে বসবাসরত অনেক প্রবাসীই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
যে আই