দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ‘ভালো সম্পর্ক’ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা না করার বিষয়টি উল্লেখ করে রোববার এ ঘোষণা দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে তিনি সন্তুষ্ট নন। এসব মহড়া ব্যয়বহুল এবং এর বড় অংশের খরচ যুক্তরাষ্ট্র বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এ ধরনের মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতি এমন একটি বার্তা পাঠায়, যা তাঁর মতে অনুপযুক্ত ও বৈরী।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানায়, বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ যৌথ সামরিক মহড়া নির্ধারিত সময়েই সোমবার শুরু হয়েছে। ১০ দিনব্যাপী এ মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ড্রোন, জিপিএস ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং সাইবার হামলা প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, এবারের মহড়ায় অন্তত ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মহড়ার বিস্তারিত বিষয় এবং দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়া সোমবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও অন্যান্য কার্যকর উপায়ে অবদান রাখার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করছে এবং আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও অংশ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘনিষ্ঠ মিত্র। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দুই দেশ নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে আসছে।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এসব মহড়ার সমালোচনা করে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে আসন্ন মহড়াকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছিল।
ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলক উষ্ণ। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ওই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি।
এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বড় আকারের যৌথ সামরিক মহড়া সীমিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়ও মহড়ার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/