দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় নয়জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রুশ হামলায় ইউক্রেনে অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলগোরোদ অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় আটজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় আস্ত্রাখান অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন।
বেলগোরোদের কলোস্কোভো গ্রামে ইউক্রেনীয় হামলায় একটি ভবনে আগুন ধরে যায় এবং একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও দুজনকে ঘটনাস্থলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সান্দর শুভায়েভ।
আস্ত্রাখানের গভর্নর ইগর বাবুশকিন জানান, একটি শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালানো হলেও স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে একটি বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন।
অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে দুজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
দোনেৎস্কের ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরে রুশ হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ। স্লোভিয়ানস্কের একটি স্থানীয় বাজারে ৫৪টি দোকান ও প্যাভিলিয়নে আগুন ধরে যায়।
সুমি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ হ্রিহোরভ জানান, রাতে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসায় রাতের হামলায় একটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
এর আগের রাতেই ইউক্রেন রাশিয়ার দিকে প্রায় ৮২২টি ড্রোন ছোড়ে বলে রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি মস্কো লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি ছিল এটি।
ওই হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হন। বেলগোরোদে একটি বেসামরিক বাসে হামলায় এক নারী এবং মস্কো অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। রুশ অনলাইন পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার ফলে রাশিয়ার ওয়াইল্ডবেরিজের সবচেয়ে বড় ১০টি সরবরাহকেন্দ্রের সাতটি অচল হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিৎসকি দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক রুশ সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম ও উপকরণ পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত থাকবে। বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের জ্বালানি কোম্পানি নাফটোগাজ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তাদের স্থাপনাগুলোতে ১৩ বার হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে দেশের ১৩টি অঞ্চলে রুশ হামলা হয়েছে। এ সময়ে রাশিয়া এক হাজার ৫৫০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, প্রায় এক হাজার ৫৬০টি নিয়ন্ত্রিত বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/