দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ফের আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই এ কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বার্তা আদান-প্রদান করলেও এর অর্থ এই নয় যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জুনে পাকিস্তানে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই আবার সংঘাত শুরু হয়েছে। সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন একটি পথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরাকচি বলেন, নতুন নৌপথ নির্ধারণের জন্য ইরান ও ওমান কারিগরি পর্যায়ে কাজ করছে। তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি চালু হবে কি না, তা রাজনৈতিক সমাধানের ওপর নির্ভর করছে। আগের নৌপথগুলো আর কার্যকর নেই এবং আপাতত একটি অস্থায়ী পথ তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর তিনি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একটি জাহাজে হামলা হয়েছে।
ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর লক্ষ্য নিয়ে ছয় মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের ওপর শিগগিরই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের গোপন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ও শেল কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই দেশটির ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানে বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আন্দোলন সরকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা মার্ক গিন্সবার্গের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনেরও সংকট নিরসনের সুস্পষ্ট কৌশল নেই। তাঁর ভাষায়, দুই পক্ষই দেখছে সংঘাতের আগে কে সরে দাঁড়ায়।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/