দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রচারিত ইসরায়েলি পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিৎসার হাইম’-এ ইসরায়েল নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল নিয়ে ব্রিটিশ লেখক র্যান্ডলফ চার্চিলের ইতিবাচক লেখার উদাহরণ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনে এমন সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এরপর ব্যঙ্গাত্মকভাবে দেশটিকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
পরে পডকাস্টে নেতানিয়াহু ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি মন্তব্যেরও প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোর কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছে ব্রিটিশ ও আইরিশ ইহুদি সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’। সংগঠনটির নেতারা বলেন, যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষ, মুসলিমবিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজন যখন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে, তখন এ ধরনের ভাষা বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
তারা আরও বলেন, নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তাঁর বক্তব্য ব্রিটিশ ইহুদিদের মতামত প্রকাশ করে না।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের প্রধান স্টাফ গ্যাভিন বারওয়েল নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে ‘প্রকাশ্য ইসলামবিদ্বেষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও ২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্সও স্থগিত করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ইসরায়েলি সরকারের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত বছর যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও কানাডার সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায়ও যোগ দেয়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক রডওয়ান আবুহারব বলেন, নেতানিয়াহুর মন্তব্য যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘নতুন নিম্নস্তর’ নির্দেশ করে। তবে ইরান ইস্যুতে দুই দেশের নীতিগত অবস্থানে এখনও উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র- আল জাজিরা
এমএস/