দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেওয়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে আরও দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার উপসাগরের প্রবেশপথের সরু এই জলপথ দিয়ে মাত্র নয়টি জাহাজ পার হয়েছে। বুধবার এই সংখ্যা ছিল পাঁচটি। আগস্ট মাসে প্রতিদিন গড়ে ১২টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত।
শুক্রবার ভোরে জাহাজ চলাচলের কোনো দৃশ্যমান তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করায় সেগুলো হিসাবের বাইরে থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক তোরবিয়র্ন সলভেডট বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হুমকির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার সক্ষমতাই আলোচনায় ইরানের সবচেয়ে বড় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। প্রয়োজন হলে জাহাজ ঘুরিয়ে এনে এই অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে দেশটির বিরুদ্ধে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধ অবসানে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইরান বলছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছাড়সহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না।
ইরানের পার্লামেন্টের একটি কমিটিও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেশটির পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশের পণ্য ও সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে বলে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হতো। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ৮১ ডলারে উঠেছে।
এদিকে এশিয়ার জ্বালানি পরিশোধনাগারগুলো ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার দিকে ঝুঁকছে। ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিও জুলাইয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং কিছু অঞ্চলে অর্থনীতি মন্দার দিকেও যেতে পারে।
সূত্র- রয়টার্স
এমএস/