দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দখলকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধের মধ্যে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিজ বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বসতি স্থাপনকারীরা কয়েক দিন ধরে তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রেখে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।
কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী পুরো গ্রামকে বন্ধ সামরিক এলাকা ঘোষণা করেছে। খালি করে দেওয়া কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়ি সেনারা ব্যারাক হিসেবেও ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা সেখানে অভিযান চালাচ্ছে।
কুসরার তিনটি বাড়িতে থাকা আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কয়েকজনকে বৃহস্পতিবার বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। একই সঙ্গে গ্রামের আরও ১১টি বাড়ির বাসিন্দাদেরও সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা পর কিছু পরিবারকে বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হলেও তারা ঘর এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। একজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ঘর থেকে খাবার ফেলে দেওয়া এবং ১ হাজার ৫০০ ডলার নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো জবাব দেয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে কাহের ওদেহ নামে এক বাসিন্দা জানান, ২০ থেকে ৩০ জনের মতো সেনা তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে বের হয়ে যেতে বলে। পরে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয় এবং একাধিক পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
এর আগে রোববার থেকে বসতি স্থাপনকারীরা কুসরার তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রাখে। বাড়িগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রায় ১৫ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে, কয়েক দিন ধরে এসব বাড়িতে আটকা ছিলেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে সেনারা এলাকায় প্রবেশ করে দুটি অবৈধ বসতি স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। একজন ইসরায়েলিকে আটক ও কিছু সরঞ্জাম জব্দ করার কথাও জানিয়েছে তারা।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা কুসরার বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ পেয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান চলাকালে উল্টো তাদেরই বাড়ি ছাড়তে হয়েছে।
কুসরার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে ঘটনাটির নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে চলতি বছরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কুসরার সাম্প্রতিক ঘটনা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/