দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তীব্র তাপপ্রবাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দ্বিমুখী চাপে পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতি। রেকর্ড তাপমাত্রা, নদীর পানির স্তর কমে যাওয়া, খরা ও দাবানলের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও পরিবহন খাতে দেখা দিয়েছে নানা সংকট। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে বাড়ছে জ্বালানির দাম, যা ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।
রেকর্ড কম পানি থাকায় বৃহস্পতিবার ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নদী দানিয়ুবের পানির ওপর নির্ভরশীল রোমানিয়ার একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি রিঅ্যাক্টর বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু করে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নুক্লিয়ারইলেকট্রিকা। আগস্টজুড়ে দেশটিতে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
নদীর পানির স্তর কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ফ্রান্স ও হাঙ্গেরিতেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে হয়েছে। খরার কারণে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। এতে খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ট্রায়োডস ব্যাংকের এক হিসাবে, চলতি বছরের তীব্র গরমে ইউরোপের অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে ১৮ হাজার কোটি ইউরো, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শ্রম উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বিঘ্নই অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
চলতি সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বছরের পঞ্চম তাপপ্রবাহ চলছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির কিছু এলাকায় জারি করা হয়েছে চরম তাপমাত্রার সতর্কতা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে জুন ও জুলাই ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ সময়।
অতিরিক্ত গরমের কারণে প্যারিসে আইফেল টাওয়ার ও লুভর জাদুঘর কোনো কোনো দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করতে হয়েছে।
তবে শুধু তাপপ্রবাহই ইউরোপের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বাড়ছে। ইউরোপের গ্যাসের মজুতও বছরের এই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে শীতের আগে গ্যাসের মজুত পূরণ করা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ রাইন নদীর পানিও রেকর্ড কমে গেছে। এতে শিল্পপণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি ০.৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আইএনজি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা।
জার্মানির রাসায়নিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বিএএসএফ জানিয়েছে, রাইনের পানির স্তর কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প হিসেবে ট্রাক ও রেলপথে পরিবহন বাড়াচ্ছে।
তীব্র গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কৃষিতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ইংল্যান্ডের একটি খামারে ফসলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভোররাত ৩টা থেকে ফসল কাটার কাজ শুরু করা হচ্ছে।
এদিকে শীতের আগে ইউরোপে গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ থাকা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালি বন্ধ থাকলে ইউরোপে গ্যাসের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ৬১ ইউরোতে পৌঁছেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এ দাম ছিল ৩২ ইউরো। ফলে তীব্র গরম ও যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের অর্থনীতিতে সামনে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র- সিএনএন
এমএস/