দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরান ষড়যন্ত্র করছে—ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এমন একটি তথ্যকে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বাধা দেওয়ার কৌশল হিসেবে সন্দেহ করছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্পের উড়োজাহাজ অবস্থান করা আঙ্কারা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ওই সময় মার্কিন কর্মকর্তারা তুর্কি কর্মকর্তাদের জানান, ইসরায়েল থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছে, ইরান ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের একটি গোপন অভিযানকারী দল কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আঙ্কারা বিমানবন্দরের কাছ থেকে ট্রাম্পের উড়োজাহাজে হামলা চালাতে পারে বলে ওই তথ্যে সতর্ক করা হয়েছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। প্রথমে ট্রাম্পের আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে যাত্রার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ইসেনবোগা বিমানবন্দরে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়। পরে নতুন উড়োজাহাজে না থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে এমন পুরোনো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ট্রাম্প পুরোনো উড়োজাহাজে ওঠার পর গোপনে তাকে একটি সরকারি উড়োজাহাজে নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য শেষ মুহূর্তে সি-৩২ উড়োজাহাজের অবতরণের অনুমতিও চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
তবে তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা এখন দাবি করছেন, ওই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে শুরু থেকেই তাদের সন্দেহ ছিল। তাদের ধারণা, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ট্রাম্পকে নিজেদের পক্ষ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ভাবমূর্তি তৈরি করতে এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ভেস্তে দিতে ওই তথ্য ব্যবহার করে থাকতে পারে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন। ন্যাটো সম্মেলনের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে বারবার মন্তব্য করেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানো, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়ানো এবং ইরানি নেতাদের লক্ষ্য করে নতুন হত্যাকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তুরস্কের এক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, তারা গোয়েন্দা তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাদের কাছে এটি স্পষ্ট ছিল যে তথ্যটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান অতীতে তুরস্কে ভিন্নমতাবলম্বী ইরানিদের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকলেও আঙ্কারার মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এমন জটিল হামলা চালানোর নজির নেই।
এ ধরনের হামলার জন্য আঙ্কারার ভেতরে ব্যাপক প্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয়স্থল, গোপন যাতায়াতের পথ এবং একাধিক নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে অস্ত্র পরিবহনের প্রয়োজন হতো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন আগে এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তুরস্কের ওপর রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঙ্কারার কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইসরায়েল এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তুরস্কের কর্মকর্তাদের সন্দেহের বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিডল ইস্ট আই। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
/অ