দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান বদলের ঘটনায় ইরান-যুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজটি গণমাধ্যমকর্মী ও হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মী নিয়ে যাত্রা করলেও ট্রাম্প নিজে অন্য একটি উড়োজাহাজে ওঠেন। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এই গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে।
অভিযানটি ছিল বেশ নাটকীয়। ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের ভেতর করে উড়োজাহাজে নেওয়া ও নামানো হয়। এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কার্যত একটি বিভ্রান্তিমূলক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সম্ভাব্য হামলাকারীরা প্রেসিডেন্টের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্ত থাকে।
ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিহাসেও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর এবিসির সাংবাদিক জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান তাঁকে হত্যার চেষ্টা করার আগেই তিনি তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। ওই সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ও সমন্বয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।
মার্চে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছিলেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল এবং ট্রাম্পই শেষ হাসি হেসেছেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতারা ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
২০২২ সালে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন ইরানকে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। ওই সময় সাবেক ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে হত্যার একটি পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাকিস্তানি নাগরিক আসিফ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে আইআরজিসির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের নভেম্বরে আফগান নাগরিক ফারহাদ শাকারির বিরুদ্ধেও ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। মার্চেন্ট ২০২৬ সালের মার্চে দোষী সাব্যস্ত হলেও শাকারি এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ট্রাম্প আহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় গলফ খেলার সময় তাঁর কাছে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অস্ত্রধারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রায়ই তাঁকে হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে রসিকতা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যানও বলেছেন, ইরানের ষড়যন্ত্র ও ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টাগুলো ট্রাম্পের মনে একটি বড় হুমকির অনুভূতি তৈরি করেছে।
চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক মার্কিন সামরিক অভিযান ও নৌ অবরোধের পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি আরও বেড়েছে। জুলাইয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এর জবাবে ইরানের দিকে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
খামেনির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানেও ট্রাম্পবিরোধী বার্তা দেখা যায়। অনুষ্ঠানের আগের দিন সেখানে ‘#KillTrump’ লেখা ব্যানার বহন করা হয়। পরের সপ্তাহে তেহরানের একটি চত্বরে ট্রাম্পকে কালো কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখিয়ে একটি বড় দেয়ালচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের গোপন ব্যবস্থা নেওয়া নজিরবিহীন নয়। যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি সফরের সময় অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে ভ্রমণসূচি গোপন রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্পকে ক্যাটারিং ট্রাকের ভেতর করে একটি বিকল্প উড়োজাহাজে নেওয়ার ঘটনা তাঁর প্রকাশ্য শক্তিশালী ভাবমূর্তির সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প আবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে একই উড়োজাহাজে ওঠেন। অস্বাভাবিক যাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরানিদের তালিকায় তিনি সবসময় এক নম্বরে আছেন বলে তিনি জানেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/