দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই কালি ও পেরেইরা শহরের বাসিন্দা।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর কম্পন অনুভূত হয়। মঙ্গলবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২০০ হলেও স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য একত্র করলে মৃতের সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি পেরেইরা থেকে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট জানান, নিহতদের পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ৬০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি আরও জানান, ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ৮ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পেরেইরা ও কালিসহ বিভিন্ন শহরে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। কারও বাড়ি ধসে গেছে, আবার অনেকে পরবর্তী ধসের আশঙ্কায় ঘরে ফিরতে সাহস পাননি।
কালি শহরে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ২২ লাখ মানুষের এই শহরে উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ে একটি কমান্ড পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানান, শহরে ২৩৯ জন এখনো বিভিন্ন স্থানে আটকে রয়েছেন, আহত হয়েছেন ৯৪৯ জন এবং ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
কালির একটি হাসপাতালের কয়েকটি ওপরের তলা ধসে পড়েছে। এর মধ্যে শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অংশও ছিল। ফলে কয়েকজন রোগী সেখানে আটকা পড়েছেন।
শহরের উত্তরাঞ্চলের কালিমা এলাকায় একটি স্কুলের অংশ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছে। পৌর মেয়র আন্তোনিও কাদাভিদ জানান, আরও কয়েকজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে এবং মোট ৩০ শিশুকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
লুটপাট ঠেকাতে এলাকায় কারফিউ জারি করেছেন মেয়র। স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের ভূমিকম্পের পর মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭০টির বেশি পরাঘাত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সান হোসে দেল পালমার ও সান্তান্দের এলাকায় ৩ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।
পেরেইরায় ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭৯ জন। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে শহরে গাড়িমুক্ত দিবস ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শহরটির বিভিন্ন এলাকায় শত শত স্বেচ্ছাসেবী ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায়, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কোথাও ভবন ধসে পড়েছে, আবার কোথাও বাস ও ট্রাক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছে।
মানিজালেস শহরেও ভূমিকম্পে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানিয়েছেন, সেখানে ৬০টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। পরবর্তী পরাঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি অজানা উৎসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বার্তা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় কলম্বিয়াকে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তার কথা জানিয়েছেন।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, দেশটির ১৬৪ নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্প্যানিশ নাগরিকের আহত বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কলম্বিয়াকে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইকুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলাও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/