দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে শুক্রবার অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্রামের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গ্রামটির দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হয়।
গত সপ্তাহে একই এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করলেও পরে প্রকাশিত ভিডিওতে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার দৃশ্য দেখা যায়।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছর ধরে পশ্চিম তীরে এ ধরনের সহিংসতা বেড়েছে।
তাল গ্রামের স্থানীয় কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মুনথের শাত্তাইয়া জানান, গত সপ্তাহের ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই গ্রামটিতে অভিযান চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন গ্রামবাসী ইসরায়েলি হেফাজতে রয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কেউই গত সপ্তাহের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এটি মূলত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ এবং সম্মিলিত শাস্তির অংশ।
গ্রামের বাসিন্দা আবদুল রহমান জায়দান অভিযোগ করেন, বসতি স্থাপনকারীদের বাধা দিতে গেলে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস ও সরাসরি গুলি ছুড়ে গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখায়, যাতে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষা করতে না পারেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশকে ফিলিস্তিনিদের একটি ভবন থেকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ সময় ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।
পরে রয়টার্সের সাংবাদিক স্থানীয় একটি কবরস্থানে গিয়ে একাধিক ভাঙা কবর দেখতে পান। গ্রামবাসীদের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরাই এসব কবর ভাঙচুর করেছে এবং তখনও সেনারা সেখানে উপস্থিত ছিল।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বসতি স্থাপনকারীদের ছত্রভঙ্গ ও এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। কবরস্থানে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীরা কার্যত দায়মুক্তি ভোগ করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা বা সহযোগিতায় এসব হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ফিলিস্তিনিরা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের দখলে যাওয়া পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী ইসরায়েল সরকার সেখানে দ্রুতগতিতে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/