দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নতুন যে পরিকল্পনা সামনে এসেছে, তা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এটি একটি বিরল আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে কখনোই হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দেয়নি। কূটনৈতিকভাবে সতর্ক ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই প্রস্তাব নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পরিকল্পনার মূল শর্ত হলো—হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করলে গাজার বর্তমানে দখলে থাকা প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ব্যাপক প্রাণহানির কারণে এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গাজার দুই মিলিয়নের বেশি ফিলিস্তিনি এখনও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছেন। জাতিসংঘের নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও আরও এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত এক হাজার শিশু ছিল নবজাতক।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর ইসরায়েলের বড় অংশের জনগণের বিশ্বাস, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত—উভয় ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা ইস্যুতে কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
হামাসও এখন বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। সংগঠনটির বহু শীর্ষ নেতা ও হাজারো যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হামাসের নতুন অবস্থান গড়ে উঠেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং ধাপে ধাপে সমঝোতা ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পুরো প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি—উভয় পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আরও দূরে সরে যেতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/