দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সৌদি তেল আমদানির বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে এশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে তারা এখন লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে সুয়েজ খাল হয়ে আফ্রিকা প্রদক্ষিণ করে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই পরিবর্তন তারই সর্বশেষ প্রভাব। সরবরাহ কমে যাওয়ায় শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস ও নতুন পরিবহন রুটের দিকে ঝুঁকছে।
মঙ্গলবার হুথিদের হুমকির পর এশিয়াগামী সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি ট্যাংকার লোহিত সাগর থেকে দিক পরিবর্তন করে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যাও আরও কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়ানবু বন্দর থেকে পূর্বমুখী হয়ে আরব সাগরে প্রবেশের পরিবর্তে সুয়েজ খাল ও আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে এশিয়ায় পৌঁছাতে প্রায় চার সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এলএসইজি ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী রোডোস নামের একটি তেলবাহী জাহাজ ইয়ানবু থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূলে যাওয়ার পথে পূর্বমুখী না হয়ে পশ্চিমে সুয়েজ খালের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার তেল শোধনাগার হুন্দাই অয়েলব্যাংক ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ভাড়া নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজন হলে জাহাজটি সুয়েজ খাল ও মিসরের সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার করবে। এই পাইপলাইন লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
শিপিং খাতের একটি সূত্র জানায়, পূর্ণ বোঝাই ভিএলসিসি সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে পারে না। তাই খালে প্রবেশের আগে জাহাজের কিছু তেল সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়। পরে খাল পার হওয়ার পর জাহাজটি আবার সেই তেল তুলে নেয়।
সূত্রটি আরও জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী চার্টারকারীরা সুয়েজ খাল, সুমেদ পাইপলাইন কিংবা উভয়ই ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প রুটই একমাত্র ভরসা হবে। অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব পরে নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে লোহিত সাগর থেকে ইউরোপে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন বহুল ব্যবহৃত রুট।
কেপলারের কমোডিটি গবেষণা পরিচালক ম্যাট স্মিথ বলেন, ‘ট্যাংকারগুলোর চলাচলের ধরন বদলে যাওয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা হুথিদের হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।’ তিনি জানান, সৌদি আরবের জন্য এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ গত মাসে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে দেশটির অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্যের পরিবহন দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি রেকর্ডে পৌঁছেছিল।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/