দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নতুন আইন পাস করেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের আগে সবার জন্য বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ফ্রান্স।
মঙ্গলবার দেশটির সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি আইনটি অনুমোদন করে। যদিও বামপন্থী কিছু আইনপ্রণেতা এর সমালোচনা করেছেন, তবুও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে নিজের মেয়াদের শেষ দিকে এমন আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
আইনটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। একই সঙ্গে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নিয়মটি বিদ্যমান সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। অর্থাৎ ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হলে প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে ১৫ বছরের বেশি বয়সী হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে ইতোমধ্যে গোপনীয়তা, প্রযুক্তির কার্যকারিতা, শিশুদের তা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং দ্রুত আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ফ্রান্সের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বয়স যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই রয়েছে। তাই দ্রুত আইন বাস্তবায়ন সম্ভব।
এর আগে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া। তবে দেশটির ই-সেফটি কমিশনের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার পরও ১৬ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাতজন কোনো না কোনোভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করতে পেরেছে।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট স্টাডিজের অধ্যাপক তামা লিভার বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে এটি দেখিয়েছে, এ ধরনের আইন বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি মনে করেন, ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সবার জন্য বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় আইনটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তার মতে, এমন নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক কিশোর-কিশোরী কম নিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি সংবাদ গ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতাও কমে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপজুড়ে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। গত জুনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ঐচ্ছিক কারফিউয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন আইন প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/