দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনিই হতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী। গত ১০ বছরে দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি।
কবে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বার্নহাম?
শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন সোমবার।
সেদিন প্রথমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা চার্লস অ্যান্ডি বার্নহামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি।
এরপর ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বরে গিয়ে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেলেও ক্ষমতায় আসার পরপরই বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ইউ-টার্নের কারণে জনসমর্থন হারাতে শুরু করেন কিয়ার স্টারমার।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের সাফল্যের পর। এতে লেবারের অনেক এমপি মনে করেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই লেবার নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ছিল বার্নহামের। সম্প্রতি উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য তার পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই তিনি লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন।
বার্নহাম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিশ্রুতিগুলো বহাল রাখবেন। আয়কর, ভ্যাট ও ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের মূল হার না বাড়ানোর নীতিও বজায় রাখবেন।
তবে স্থানীয় সরকারকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। আবাসন, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে চান তিনি।
এছাড়া ম্যানচেস্টারে লন্ডনের বাইরে আরেকটি সরকারি সমন্বয় কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
কল্যাণনীতি, সামাজিক সেবা, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা এবং সম্ভাব্য সম্পদ কর (Wealth Tax) নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নীতি ঘোষণা করেননি।
বার্নহাম এখনো মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি।
তবে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেমস পার্নেলকে ইতোমধ্যে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেইঘও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নতুন অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) কে হবেন, তা নিয়ে। এড মিলিব্যান্ডের নাম আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে।
১৯৭০ সালে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া অ্যান্ডি বার্নহাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীতিতে আসার আগে সাংবাদিকতা করেছেন।
২০০১ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে এমপির পদ ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হন এবং সম্প্রতি সেই পদ ছেড়ে আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
তিনি দীর্ঘদিনের এভারটন ফুটবল ক্লাবের সমর্থক।
বার্নহামের স্ত্রী মেরি-ফ্রান্স ভ্যান হিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাদের পরিচয় হয়। তাদের তিন সন্তান রয়েছে।
এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া সীমিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার্নহামকে "অত্যন্ত উদারপন্থী" বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী এলেও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে বলে তারা মনে করে না।
ইউক্রেনও ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে। যদিও বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থনে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/