দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি নতুন পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে ইসরায়েল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এ তথ্য সামনে এলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এ সতর্কবার্তা দেয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য পেলেও ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যটি ছিল নির্দিষ্ট একটি ষড়যন্ত্রকে ঘিরে।
তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ জোরদারের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতেই ইসরায়েল এ তথ্য দিয়ে থাকতে পারে।
ইসরায়েল যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র নিজস্বভাবে যাচাইও করেনি বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে। তবে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় হত্যার পর থেকেই ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কার কথা ওয়াশিংটন বারবার জানিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতা—আমাকে—হত্যা করতে চায়। আমি তাদের তালিকায় আছি। আজ সকালে দেখলাম, আমি তাদের সব তালিকাতেই আছি। এখন পর্যন্ত হয়তো ভাগ্য ভালো ছিল, কিন্তু সেটা কত দিন থাকবে জানি না।”
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি একটি নতুন তালিকার কথা জেনেছেন, যেখানে তাকে ইরানের প্রধান হত্যার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি ওই বক্তব্যে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের কথাই বলছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত সপ্তাহান্তে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিছু মানুষ ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন এবং তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির কারণে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রাম্পসহ বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নজরদারি চলছে। তবে এখনো কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। উভয় পক্ষ আগামী আগস্টের মধ্যভাগের মধ্যে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যুক্তরাষ্ট্র ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/